একতা ডেস্কঃ হঠাৎ করে ভারত সরকার বাংলাদেশ থেকে ছয় ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এরপর আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে মাছ রপ্তানি বন্ধ রাখলেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার সকালের দিকে মাছ রপ্তানি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মৎস্য রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফারুক মিয়া। গতকাল তিনি জানান, আমাদের ব্যবসায়ী কিছু ব্যক্তিগত কারণে আজকে আমরা মাছ রপ্তানি করব না তবে আগামীকাল মাছ রপ্তানি হবে।
ভারত সরকারের হঠাৎ এমন ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানি কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা রপ্তানি বাণিজ্য রক্ষায় দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। নিষিদ্ধঘোষিত পণ্যের মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, প্লাস্টিক সামগ্রী, সুতা ও সুতার উপজাত এবং আসবাবপত্র। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ও কাঠের আসবাব ব্যতীত বাকি সব পণ্যই নিয়মিতভাবে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি হতো।
এ ব্যাপারে আখাউড়া স্থলবন্দর সূত্র জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৪২৮ কোটি টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের (চলতি) প্রথমার্ধে রপ্তানি হয়েছে ৪৫৩ কোটি টাকার পণ্য। একই সময়ে আমদানি ছিল তুলনামূলক কম, চলতি অর্থবছরে মাত্র ১০৬ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতিদিন ৪০-৫০টি গাড়ি রপ্তানিতে অংশ নিত। নিষেধাজ্ঞার পর এখন শুধু মাছ, সিমেন্ট ও শুঁটকি মাছ রপ্তানি হচ্ছে।
দেশের অন্যতম বৃহৎ এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী এ স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলায় পাঠানো হয়। সেখান থেকে তা সরবরাহ করা হয় দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোয়। ভারতের হঠাৎ এ সিদ্ধান্তে দুই দেশের পারস্পরিক বাণিজ্য সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply