একতা ডেস্ক: ময়মনসিংহ নগরীর পুরোহিত পাড়া এলাকায় ২০১৮ সালের ২২ মে এনকাউন্টারে রাজন হত্যার ঘটনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার সাবেক ওসি আশিকুর রহমানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর, রোববার রাজনের বাবা হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে ময়মনসিংহের ১ নম্বর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রওশন জামিল বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ঘটনা তদন্ত করে ওসি কোতোয়ালি মডেল থানাকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
অন্য আসামিরা হলেন- পুলিশ পরিদর্শক মোখলেছুর রহমান, কনস্টেবল ছোহরাব আলী, কনস্টেবল কাউসার হাবিব, কনস্টেবল গোলজার, এএসআই জাকির হোসেন, এসআই ফারুক আহমেদ, এসআই পরিমল চন্দ্র দাস, এসআই আক্রাম হোসেন, এএসআই আব্দুল মজিদ, এএসআই জিন্নাত হাসান মানিক, এএসআই জিল্লুর রহমান, কনস্টেবল সাইফুল, কনস্টেবল সেলিম, কনস্টেবল রাশেদুল, কনস্টেবল সানোয়ার ও কনস্টেবল জহিরুল ইসলাম।
ময়মনসিংহ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, অভিযোগের পর আদালত ঘটনা তদন্ত করে ওসি কোতোয়ালীকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার অভিযোগে জানা যায়, ২০১৮ সালের ২২ মে মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ডিবির সাবেক ওসি আশিকুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল পুরোহিত পাড়ায় অভিযান চালিয়ে বাদী হারুন অর রশিদের ছেলে রাজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বাদী তার ছেলেকে দেখার জন্য ডিবি কার্যালয়ে যান। কিন্তু দুই দিনেও তাকে ছাড়েনি ডিবি। এরপর ২৪ মে সকালে বাদী আবারও ছেলেকে ছাড়াতে ডিবি কার্যালয়ে গেলে ওসি আশিকুর রহমান ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। বাদী টাকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে রাত পৌনে ২টার সময় পুরোহিতপাড়া রেলওয়ে ভাঙ্গা ওয়াল সংলগ্ন পুকুরপাড় দক্ষিণ পশ্চিম কোনায় রেনু বেগমের বাড়ির পাশে রাজনকে নিয়ে গিয়ে ওসি আশিকুর রহমানের নির্দেশে সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা রাজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে বুকে ও পেটের নিচে কয়েক রাউন্ড গুলি করেন। এরপর রাজন মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মারা যান। তাকে উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের হাতে রাজনের মরদেহ তুলে দেয়।
এ মামলার বাদী হারুন অর রশিদ জানান, ১০ লাখ টাকা না দেওয়ায় ওসি আশিকুর রহমানসহ অন্যরা আমার ছেলে রাজনকে ক্রসফায়ারে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
তথ্যসূত্রঃ সমকাল

Leave a Reply