একতা ডেস্কঃ প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী আব্বাসউদ্দীন আহমদ [১৯০১-১৯৫৯]। ১৯০১ সালের ২৭ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের কুচবিহার জেলার তুফানগঞ্জ মহকুমার বলরামপুরে তার জন্ম, মৃত্যু হয় ১৯৫৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর। তিনি স্বদেশি, আধুনিক, ইসলামি, পল্লীগীতি ও উর্দু গান সবই গেয়েছেন। কিন্তু পল্লীগীতিতেই তার মৌলিকতা ও সাফল্য সর্বাধিক।
আব্বাসউদ্দিন কোনো ওস্তাদের কাছে কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তালিম নিয়ে তিনি গান শেখেননি। শুরুতে ছিলেন পল্লীগাঁওয়ের একজন গায়ক। যাত্রা-নাটক ও স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান শুনে তিনি সংগীতের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং নিজ চেষ্টায় গান গাওয়া রপ্ত করেন। পরে কলকাতায় অল্প সময়ের জন্য তিনি ওস্তাদ জমিরুদ্দীন খাঁর কাছে উচ্চাঙ্গসংগীতে তালিম নেন। আব্বাসউদ্দীনের গান প্রথম রেকর্ড করে ১৯৩০ সালে হিজ মাস্টার্স ভয়েস; পরে মেগাফোন, টুইন, রিগ্যাল প্রভৃতি কোম্পানিও তার বহু গান রেকর্ড করে।
দেশভাগের পর ঢাকায় এসে তিনি সরকারের প্রচার দপ্তরে অ্যাডিশনাল সং অরগানাইজার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। পাকিস্তানের প্রতিনিধি হিসেবে ১৯৫৫ সালে ম্যানিলায় দক্ষিণপূর্ব এশীয় সংগীত সম্মেলন, ১৯৫৬ সালে জার্মানিতে আন্তর্জাতিক লোকসংগীত সম্মেলনে অংশ নেন। তাঁর গানের রেকর্ডগুলো এক অমর কীর্তি। ‘আমার শিল্পীজীবনের কথা’ (১৯৬০) তার রচিত একমাত্র গ্রন্থ। তিনি সংগীতে অবদানের জন্য মরণোত্তর প্রাইড অব পারফরমেন্স (১৯৬০), শিল্পকলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৯) এবং স্বাধীনতা পুরস্কারে (১৯৮১) ভূষিত হন।

Leave a Reply