একতা ডেস্কঃ কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা দিয়ে হেনস্তার ঘটনায় ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলাটি করেন মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই কানু। তার কাছে দাবি করা ২৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাকে হেনস্তা করা হয় বলে আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলায় ১০০ কোটি টাকার মানহানির অভিযোগও করেছেন তিনি।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম আজার-উজ জামান বলেন, ফেনী থেকে চৌদ্দগ্রামের কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা মামলার আরজি থানায় নিয়ে আসেন। থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। মামলার আসামিরা হলেন চৌদ্দগ্রামের কুলিয়ারা গ্রামের প্রবাসী আবুল হাশেম মজুমদার, পেয়ার আহাম্মদ মজুমদার, এমরান, ওহিদ মজুমদার, রাসেল, ইসমাইল মজুমদার, বেলাল মজুমদার, নয়ন মজুমদার, পাতড্ডা গ্রামের শিমুল, শনপুর গ্রামের রুবেলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১২ জন। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজনের মধ্যে শুধুমাত্র ইসমাইল মজুমদারকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, আসামিরা গত কয়েক দিন ধরে তার (বাদী) কাছে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে খুন ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। গত রবিবার তিনি স্থানীয় পাতড্ডা বাজারের একটি ফার্মেসিতে বসা ছিলেন। আসামিরা সেখানে গিয়ে টানাহেঁচড়া করে কুলিয়ারা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে তাকে একটি কক্ষে আটক রেখে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে জখম করে। এক পর্যায়ে মেঝেতে শুইয়ে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করে। এ সময় বাদী ওই কক্ষ হতে বের হয়ে স্কুলের সামনে এলে আসামিরা জুতা দিয়ে মালা তৈরি করে তার গলায় পরিয়ে স্কুলের মাঠে ও রাস্তায় হাঁটায়। এ ঘটনায় তার ১০০ কোটি টাকার সম্মানহানি হয়েছে।
এদিকে আবদুল হাই কানুর ছেলে যুবলীগ নেতা গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বিপ্লব বলেন, ঘটনার পর থেকে ফেনীতে গিয়েও বাবাকে নিয়ে শঙ্কিত আছি। যে কোনো সময় আবারও হামলা হতে পারে।

Leave a Reply