একতা ডেস্কঃ প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে করেছেন ক্ষমতা দখলের পর। ২০২১ সালে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের ফলে মিয়ানমারের গণতন্ত্র উৎখাত হয় এবং দেশটি গৃহযুদ্ধে জর্জরিত হয়ে পড়ে। ইরাবতির প্রতিবেদন অনুসারে, চার বছর ধরে হ্রাইং-এর সেনাবাহিনী কয়েক ডজন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াই করছে। সামরিক শাসনের বিরোধী বিদ্রোহীদের মধ্যে অনেকের চীনের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে। সংঘাতের কারণে মিন অং হ্লাইংয়ের নিন্দা করেছে মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো। সেই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।
তবে তিনি মিত্র চীন এবং রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। ৯ মে, শুক্রবার রাশিয়ার বিজয় দিবস উদযাপনের ফাঁকে হ্লাইং মস্কোতে বেইজিংয়ের নেতা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করেন এবং মার্চ মাসে ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর চীনের মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া নিউজ জানিয়েছে, শি মিয়ানমারের ‘জাতীয় অবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং তার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক এজেন্ডাকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার প্রতি তার দেশের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
তিনি আশা করেন মিয়ানমার তার দেশে ‘চীনা কর্মী, প্রতিষ্ঠান এবং প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য দৃঢ় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং সীমান্তবর্তী অপরাধ মোকাবেলায় প্রচেষ্টা জোরদার করবে। রাজনৈতিক প্রিজনার্স অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে ৬,৬০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের সম্পদ-সমৃদ্ধ উত্তরাঞ্চলীয় শান রাজ্যের দিকে নজর রেখেছে যা এখন বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্রিলিয়ন ডলারের বেল্ট অ্যান্ড রোড অবকাঠামো উদ্যোগের অধীনে অবকাঠামো বিনিয়োগের জন্য অঞ্চলটি গুরুত্বপূর্ণ।
মিয়ানমারের জেনারেল ক্ষমতা দখলের এক বছর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে রাজধানী নেপিদোতে চীনা নেতার সঙ্গে দেখা করেছিলেন।
Leave a Reply