একতা ডেস্কঃ অনতিবিলম্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। একই সঙ্গে ন্যূনতম সংস্কার শেষে নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করারও দাবি নেতাদের। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের চার মাসের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গণ অধিকার পরিষদ, বাম গণতান্ত্রিক জোট ও ঐক্য ভাসানী ন্যাপের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বিএনপির পক্ষে বৈঠকে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সমমনা দলের নেতারা উপদেষ্টাদের ভিন্নমুখী বক্তব্যে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, সরকার গঠনের সময় চার মাস অতিবাহিত হলেও নির্বাচনের বিষয়ে এখনও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা হয়নি। তারা প্রতি পদে পদে ব্যর্থ হচ্ছে। এরপরও এই সরকারকে রাজনৈতিক দলগুলো সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলে তার দায়ভার রাজনৈতিক দলগুলো নেবে না। পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজনৈতিক দল গঠনের বিষয়ে অনেক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করেন বৈঠকে। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমাদের চলমান কাজগুলোর মধ্যে একটি রূপরেখার কাজ বাকি আছে। এ ছাড়া সংস্কার ও ৩১ দফা বাস্তবায়নের বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেছি। এখন সবার প্রত্যাশা হচ্ছে, দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে একটিসনির্বাচিত সরকার ও সংসদ। যারা আগামী দিনে এই ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে। একটা নির্বাচিত সরকার যত তাড়াতাড়ি ক্ষমতায় আসবে, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক এবং বৈদেশিক বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধান করা সম্ভব।
খসরু আরও বলেন, বৈঠকে সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি নির্বাচিত সরকার সংস্কারগুলো সংসদে বাস্তবায়ন করবে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে সংস্কারের জন্য যে কমিশনগুলো করা হয়েছে, তারাও যদি সংস্কারের কোনো প্রস্তাব রাখতে চান, তাদের সংস্কারের প্রস্তাবগুলোও আমরা সংসদে আলোচনা করব। আগামী দিনে সংসদ সেই সিদ্ধান্তগুলো দেবে। গণফোরাম সভাপতি মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে আমরা একটা বলয়ের ভেতরে পড়ে গিয়েছি। বড় বড় শক্তি আমাদের নিয়ে নানা ধরনের ঘোরাফেরা করছে। এ জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নাই। এই ঐক্য হতে হবে ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে। সংস্কার যা হবে, তা নির্বাচনের পরে জাতীয় সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে হবে। এ সময় গণ অধিকার পরিষদের একাংশের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ডা. মিজানুর রহমান, সভাপতি পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট এস এম আলতাফ হোসেন, সুব্রত চৌধুরী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু ও গণ অধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য শাকিলউজ্জামান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply