একতা ডেস্কঃ সরকার মাত্র আট মাস দায়িত্ব পালনের পর পররাষ্ট্র সচিব মোঃ জসিম উদ্দিনকে লম্বা ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও সরকারি ভাষ্যে বলা হয়েছে তিনি নিজেই দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। নতুন পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোঃ তৌহিদ হোসেন। গত রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়ামকে নতুন পররাষ্ট্র সচিব নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০ জুনের মধ্যে তাকে দেশে এসে দায়িত্ব নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এই মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা যায়, পররাষ্ট্র সচিব মোঃ জসিম উদ্দিনের বিদায়ের পর থেকেই নতুন নিয়োগ নিয়ে শুরু হয় জল্পনা-কল্পনা। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের নাম প্রস্তাব করে একটি সারসংক্ষেপ সরকারের উচ্চপর্যায়ে পাঠান। ওই তালিকায় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম, ভারতে নিযুক্ত হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব) মোঃ নজরুল ইসলাম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি সালাউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং সুইজারল্যান্ডে রাষ্ট্রদূত তারিক মোঃ আরিফুল ইসলাম। এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন ১৫তম বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের এবং দুজন ১৭তম ব্যাচের কর্মকর্তা। বাছাই শেষে আসাদ আলম সিয়ামের নাম চূড়ান্ত করা হয়। নতুন সচিবের বিষয়ে একটি সংশোধিত সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে গতকাল ফেরত এসেছে। এতে আসাদ আলম সিয়ামের নামটি সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে।
নিয়োগ পাওয়া এই আসাদ আলম সিয়ামের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ইন্দোনেশিয়ায়। এরপর ব্যাংককে। দেশে ফিরে ফরেন সেক্রেটারিয়েট অফিসে পরিচালক হিসেবে এবং ২০০৭-০৮ সালে ইফতেখার আহমেদ চৌধুরীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অফিসের পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এরপর ইউরোপের ম্যানচেস্টার ও মিলানে মিশনপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকায় ফিরে ইউরোপ অনুবিভাগের মহাপরিচালক, চিফ অব প্রটোকল এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব মিশন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। রাষ্ট্রদূত হিসেবে হিসেবে প্রথমে ম্যানিলায়, পরে অস্ট্রিয়ায় এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাকে ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
Leave a Reply