ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ইজারাদার কর্তৃক বাঁওড়গুলোয় কীটনাশক প্রয়োগ, ডিমওয়ালাসহ ছোট-বড়পোনামাছ সাবাড় করে ফেলা হচ্ছে। এ বিষয়ে এক বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও সরেজমিনে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বাঁওড় মৎসজীবী আন্দোলন। সংগঠনের আহ্বায়ক নির্মল হালদার ও সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব ২১ মার্চ ২০২৫ এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের বৃহত্তম বাঁওড়গুলোর অন্যতম বলুহর, জয়দিয়া, কাঠগড়া, ফতেপুর, মর্জাদ, বেড়গোবিন্দপুরসহ অন্যান্য বাঁওড়ে দেদারসে ইজারাদার সরকার কর্তৃক জারিকৃত বিধিনিষেধ না মেনে সব প্রজাতির মাছ লুটে নিচ্ছে। ইজারাদার কর্তৃক বাঁওড়গুলোয় কীটনাশক প্রয়োগ, ডিমওয়ালাসহ ছোট-বড়পোনামাছ সাবাড় করে ফেলা হচ্ছে। ঝিনাইদহ, যশোরসহ সারাদেশের বিভিন্ন জেলায় বাঁওড়বেষ্ঠিত হাজার হাজার মৎস্যজীবী প্রত্যক্ষভাবে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করলেও ইজারা পদ্ধতি চালুর ফলে বাঁওড় হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। ইজারা গ্রহণের সামর্থ্য না থাকা ভূমিহীন জেলে সম্প্রদায়ের হাজার-হাজার মানুষকে মানবেতর জীবনে পতিত হয়েছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ব্যাহত হয়েছে। মাছ উৎপাদন এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর সংরক্ষণ ও নির্বিঘ্ন প্রজননের স্বার্থে উল্লিখিত ৬ টি বাঁওড়ের জলজ বাস্তুসংস্থান অক্ষুন্ন রাখতে কোন প্রকার সার ও মাছের খাদ্য প্রয়োগ ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ উৎপাদন করার কোন সুযোগ নেই। মা মাছ ও ছোট আকারের কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবাধে নিধনে এগুলোর সাথে মৎস্য জীববৈচিত্র্য ধ্বংসপ্রায়। উল্লিখিত বাঁওড়সমূহে দেশী পুটি, শিং, কৈ, পাবদা, ফলি, মেনি, খলিসা, খয়রা, টেংরা, বাটা, গুতুম, কাকিলা, সরপুটি, বাইন, শোল, টাকি, গজার ইত্যাদির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসে ইজারাদারগণ কোন আইন-কানুনের তোয়াক্কা করেনা। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের বাঁওড়সহ জলমহালে একই চিত্র পরিলক্ষিত হচ্ছে। অবৈধভাবে মৎস্য নিধন বন্ধে প্রশাসনিক গাফিলতির ফলেও ইজারাদার চক্র বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী জেলে জনগোষ্ঠী।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, ইজারা বাতিল করে বাঁওড়সহ সকল জলমহালে মৎস্যজীবী জেলেদের সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা নিশ্চিতে রাষ্ট্রীয় তদারকি ও অর্থায়নে জলমহাল নীতিমালা প্রনয়ণের দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত ১২ মার্চ রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ-মিছিল শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পেশ ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের মধ্যকার বৈঠকে জেলেদের দাবিদাওয়া বাস্তবায়নে আশ্বস্ত করা হয়। বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি না করে বাঁওড় জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্য অভয়ারণ্য গড়ে তোলা, বাঁওড় জেলেদের উন্নত জীবন-জীবিকা-কর্মসংস্থানের নিরাপদ পরিবেশ ও বিনা জমায় ষাটোর্ধদের পেনশনসহ বাঁওড়সহ সমগ্র জলমহালে সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানার ৪ দফা দাবি পুনর্ব্যক্ত করে নিয়মনীতি বহির্ভূত ও অবাধে মাছ লুটপাটের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে প্রশাসনের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান।
Leave a Reply