একতা ডেস্কঃ কাবুলে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই। ২৩ মার্চ, শনিবার আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাওলাভি আমির খান মোত্তাকির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন আফগানিস্তানবিষয়ক পাকিস্তানের বিশেষ প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাদিক। এই বৈঠকে উভয় দেশ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের পাশাপাশি বাণিজ্য, নিরাপত্তা ও শরণার্থী ইস্যুতে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাকিস্তানের বিশেষ দূত আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সংলাপ বজায় রাখার প্রতি তার দেশের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোত্তাকি বাণিজ্য ও ট্রানজিটের বাধা দূর করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের অগ্রগতির জন্য এসব বাধা ক্ষতিকর। পাশাপাশি, আফগান শরণার্থীদের সম্মানজনক প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
পাকিস্তানের বিশেষ দূত আফগান নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাদিক আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী নূরউদ্দিন আজিজির সঙ্গেও বৈঠক করেন। এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও আঞ্চলিক সংযুক্তি বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ আঞ্চলিক বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক কল্যাণ নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সুষ্ঠু বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলার লক্ষ্যে ট্রানজিট সুবিধা সহজ করার বিষয়টিও আলোচনার অংশ ছিল। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সাদিক পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের নির্দেশে এই সফর করছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আফগানিস্তানবিষয়ক এক ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘে নিযুক্ত পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি মুনির আকরাম আফগানিস্তান থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ব সম্প্রদায়কে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, আফগান সরকারের উচিত আল-কায়েদা, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) মতো গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা ইস্যুতে মতবিরোধ রয়েছে। তবে এই বৈঠক উভয় দেশের মধ্যে আস্থার পরিবেশ তৈরির একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের জন্যই দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
Leave a Reply