আজ ২৬ মার্চ। বাঙালি জাতির জীবনে এক গৌরবোজ্জল দিন। ১০৭১-এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজবুর রহমনকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান নিয়ে গেল তৎকলীন পশ্চিম পাকিস্তানে। আর এ রাতেই শুরু হলো তাদের এদেশের মানুষের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া। খুন, ধর্ষণ লুটপাটসহ সাধারণ মানুষের প্রতি তাদের আক্রোশ মেটাতে লাগলো যা মন চেয়েছে তেমনভাবে। সে রাতেই আমরা এদেশের অনেক তাজা প্রাণ আর সম্ভাবনাময় অসংখ্য জীবন হারিয়ে ফেললাম। তখন সেই পৈশাচিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে উঠতে চট্টগ্রামের কালুর ঘাটের বেতার কেন্দ্র থেকে লিখিত বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন মেজর জিয়াউর রহমান। এ ঘোষণায় স্বাধীনতার স্বপ্ন নিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিল দেশের মানুষ। আর জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে জীবন দিয়ে ত্রিশ লাখ তরুণ তাজা প্রাণ।
দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল দেশ। আমাদের স্মরণ রাখা দরকার যে, আমাদের দেশের সব মানুষই যদি সেদিন স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুদ্ধ করুক আর না করুক অন্তত সমর্থনে থাকতো। যুদ্ধের বিরোধীতা না করতো তথা পাকবাহিনীকে সহযোগিতা না করতো, তাহলে যুদ্ধে জয় লাভ করতে এই নয় মাস অতিবাহিত হতো না। তার চেয়ে অনেক কম সময়েই আমাদের দেশ স্বাধীনতার নতুন সূর্যের দেখা পেতো।
সেদিন তা সম্ভব হয়নি। কারণ দেশবিরোধী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের একটি বড় অংশের মানুষ সেদিন মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সহযোগিতায় পাকবাহিনী দেশের আনাচে কানাচে ঢুকে বড় রকমের ক্ষতি সাধন করতে পেরেছে। আড়াই লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত লুটে নিতে পেরেছে। সেই সব দেশবিরোধী শক্তি পরবর্তী সময়েও অনেকবার মাথাচাড়া উঠতে চেয়েছে। ক্ষমতাসীনদের পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় নানা রকম ক্ষতিও করেছে। দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটিয়ে পার পেয়ে গেছে তারা। আর এখন সেই চেতনায় লালিত হয়ে কিছু ভূঁইফোঁড় নেতা ’৭১ আর ২৪কে একসঙ্গে মিলিয়ে ফেলতে চাচ্ছেন। জাতিকে তাদের বিষয়ে অবশ্যই সজাগ থাকতে হবে।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply