একতা ডেস্কঃ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহম্মদ ইউনূস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় প্রবেশ করছে বলে মনে করেন। অদূর ভবিষ্যতে আরও বেশিসংখ্যক চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এবং স্থানীয় অংশীদারদের সমন্বয়ে এ অঞ্চলে একটি বড় বাজার সৃষ্টিতে উৎসাহী হবেন বলেও আশা করছেন তিনি। গত শুক্রবার চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সফরে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের শীতলতা বা ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচ না থাকলেও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, সফরে এমন কিছু হয়নি যাতে ভারত চিন্তিত হতে পারে।
ড. ইউনূস বলেন, আমাদের সম্পর্ক বছরের পর বছর ধরে শক্তিশালী হচ্ছে। বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আমরা উপকৃত হচ্ছি এবং ভবিষ্যতে চীন আরও বেশি বিনিয়োগ করবে বলে আশা করছি। তিনি আরও বলেন, চীনের অর্থনৈতিক সাফল্য বাংলাদেশকে অনুপ্রাণিত করে এবং বাংলাদেশ চীনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে চায়। ক্ষুদ্রঋণ প্রকল্পের মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ তত্ত্বের আবিষ্কার এবং সফলভাবে তার প্রয়োগের জন্য ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মুহম্মদ ইউনূস চীনের দারিদ্র্য দূরিকরণ কর্মসূচিরও প্রশংসা করেন। সিনহুয়াকে এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উন্নয়ন বলতে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ জিডিপি বা প্রবৃদ্ধির ঊর্ধ্বরেখাকে বোঝায়। কিন্তু চীন এক্ষেত্রে মনোযোগ দিয়েছে নিম্ন আয়ের লোকজনের জীবনমান উন্নয়নের দিকে। এ কারণেই চীন অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং ব্যাপক সাফল্যের সঙ্গে দারিদ্র্য কমাতে সক্ষম হয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে রোগী, চিকিৎসক এবং ট্রাভেল এজেন্সির একটি দল চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে গিয়েছিল, যেখানে তারা চীনের উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ভবিষ্যতে চীনে চিকিৎসা পর্যটনের সম্ভাবনা অন্বেষণ করা। ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ চীনের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে, বিশেষ করে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে। চীনের চিকিৎসা খাতের উন্নতি আমাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত।
ড. ইউনূসের সফরের প্রাপ্তি নিয়ে তিনি বলেন, আগে থেকেই বলছিলাম, এই সফরে কোনো চুক্তি হবে না। কতগুলো সমঝোতা হবে, হয়েছেও তাই। সফরে একটিমাত্র চুক্তি ও আটটির মতো সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। তবে সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে। আসলে চীন অপেক্ষা করবে একটি নির্বাচিত সরকারে জন্য। অন্যান্য দেশ, এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রও নির্বাচনের কথা বলছে। তবে একাধিক সমঝোতা স্মারক সইয়ের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে থাকল। পরবর্তী সরকারের এতে কাজ এগিয়ে নিতে সুবিধা হবে।
Leave a Reply