পরিস্থিতি সামাল দিয়ে রাখা বা চলার দায়িত্ব থাকে বড়দের ওপর। এক্ষেত্রে বড়রা যদি সফল হয় তার ক্রেডিট তেমন একটা প্রভাব না ফেললেও ব্যর্থতার প্রভাবটা বেশি ধরা পড়ে সবার চোখে। এমনকি ছোটরা ভুল করলে বা ব্যর্থ হলেও তার দায়ভার বড়দের ওপরই বর্তায়।
সম্প্রতি জম্মু-কাশ্মীরে হামলার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের উত্তেজনা চলতে চলতে পাকিস্তানে ভারতের হামলা ও তার জবাবে পাকিস্তানের ভারতে হামলা। এতে উপমহাদেশে এক চরম অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনা যেন যুদ্ধ নিয়ে এলো এ উপমহাদেশের দারপ্রান্তে। পাল্টাপাল্টি হামলার পর ইসরায়েল ভারতকে আর তুরস্ক পাকিস্তানকে সরাসরি সমর্থন দিয়েছে পাশে থাকার।
এ হামলা শুরু হওয়ার আগেই অবশ্য চীন সব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিল। তবে হামলার পরে এখনো চীন নীরব দর্শকের ভূমিকাতেই আছে। হয়তো খুব দূরদর্শীতার সাথে বিষয়টি নজরেও রাখছে চীনা বিশেষজ্ঞগণ। তবে চীনের জন্য অবশ্যই নীরব থাকাটা ইতিবাচক দিক। দীর্ঘকাল ধরে কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া আসলে যুদ্ধ বলতে যা তার কোন আলামতই ছিল না আমাদের উপমহাদেশে। মাঝে মাঝে ভারত, পাকিস্তন ও চীনের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পৌঁছায়নি কোনটাই। তা দেখে মনেই হতো যেন যুদ্ধকে ঘৃণা করতে শিখে গেছি আমরা। কিন্তু আজ সে ধারণায় ছেদ পড়তে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
দুই সপ্তাহ আগে জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করে। এ নিয়ে শুরু হয়ে যায় দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা। ধীরে ধীরে সেই উত্তেজনা চরমে উঠে যায়। আসলে এ বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনার দিকে না এগিয়ে দুই দেশকেই আন্তরিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা উচিৎ ছিল।
প্রথমতঃ ভারতেরই উচিৎ ছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলার প্রমাণ হাজির করা। দ্বিতীয়তঃ পাকিস্তানেরও উচিত ছিল সেই প্রমাণ হাজির করার তদন্তে আন্তরিকভাবে সহায়তা করা। তবে সেই পরিস্থিতি তৈরি করার দায়িত্বটা ভারতেই ছিল বলে ধারণা করা যায়। কারণ ভারত এখানে বড়দেশ। ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, সামরিক এবং ধনী দেশ হিসেবেও উপমাহদেশের দাদা হচ্ছে ভারত। কেবল তাই নয় বিশ্বের পরাশক্তি হিসেবে প্রথম সারিতে স্থান রয়েছে ভারতের। সেই হিসেবেও পাকিস্তান অনেক পিছিয়ে রয়েছে। পাকিস্তানের সাথে ভারতের এ টকুর কিন্তু সমানে সমানে হলো না।
ছোট’র ওপর বড়’র, গরিবের ওপর ধনীর, দুর্বলের ওপর সবলের যে জুলুম, তারই শামিল হয়ে গেল যেন পাকিস্তানের ওপর ভারতের এই হামলা। সে যাই হোক, এখন অতো চুলচেরা বিশ্লেষণ বা দোষগুণ খোঁজার সময় অবশ্যই নয়। এখন সমূহ বিপদ থেকে কিভাবে মুক্তি পাওয়া সম্ভব তা ভেবে দেখার মোক্ষম সময়। আমরা কোনভাবেই যুদ্ধকে সমর্থন করতে পারি না। সারাবিশ্বের শান্তিকামী মানুষের চাওয়া হলো শান্তি। যুদ্ধ নয়। অতএব এই মুহূর্তে যে ভুলেই হোক, যার ভুলেই এমন যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, এখনই এটাকে ‘না’ বলার দরকার উভয় পক্ষকে। তাছাড়া প্রতিবেশি দেশ হিসেবে সমস্ত দেশগুলোরও উচিৎ ভারত ও পাকিস্তানকে সুপরামর্শ দেয়া যাতে তারা উভয়েই যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়। আর এজন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রখতে হবে চীনকে। তবে দাদাদেশ হিসেবে ভারতকে অবশ্যই আরো সহনশীল হয়ে উপমহাদেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হতে হবে।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply