ঝিনাইদহ প্রতিনিধিঃ ঝিনাইদহের শৈলকুপায় শ্বশুরবাড়িতে মারধর ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পিংকী রানী দাস (২৭) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গত ২৮ মে, বুধবার বিকেলে ওই গৃহবধূর বাবা বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় স্বামীসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পিংকী রানী দাস কুষ্টিয়া সদরের আলামপুর গ্রামের শ্রীকান্ত কুমার দাসের মেয়ে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আট বছর আগে পারিবারিকভাবে পিংকী রানী দাসের সঙ্গে বিয়ে হয় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ত্রিবেনী গ্রামের সুমন কুমার দাসের। তাদের ঘরে তিন বছরের একটি কন্যা সন্তান এবং আট মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। গত ২১ মে সন্ধ্যায় স্বামীর কাছে কাপড়চোপড় কিনে দেওয়ার অনুরোধ করেন পিংকী। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পিংকী রানীর স্বামী সুমন কুমার দাস, শ্বশুর ভগিরত দাস, প্রতিবেশী রামকৃষ্ণসহ আরও কয়েকজন মিলে লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে পিংকীকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে আহত অবস্থায় তাকে তার বাবার বাড়ির লোকজন ২৩মে বিকেলে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৬মে বিকেলে পিংকী মারা যান।
কুষ্টিয়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) স্বপন কুমার মণ্ডল লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। নিহতের বাবা শ্রীকান্ত কুমার দাস বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন কারণে আমার মেয়ের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধান করা হয়।
তিনি বলেন, ‘মেয়ে মারা যাওয়ার পর এতটাই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলাম যে, মামলা করতে কিছুদিন সময় লেগেছে। আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পিতা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply