একতা ডেস্কঃ ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এক পার্শ্ববৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ঘোষিত অর্থের মধ্যে ৮০ মিলিয়ন ডলার মানবিক ত্রাণে এবং বাকি ২০ মিলিয়ন ডলার শাস্তি ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। একই সঙ্গে গাজার মানবিক সংকট এবং হামাসের কারণে ইসরায়েলিদের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অর্থহীন হয়ে পড়তে পারে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাঁক্রো এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সল বিন ফারহানের সঙ্গে বৈঠকের আগে নতুন সহায়তার ঘোষণা দেন কার্নি। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন এবং আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮০৩ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
কানাড়া, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সম্প্রতি অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্যিক লেনদেন নিষিদ্ধ করার বিষয়ে একমত হয়েছে। পূর্ব জেরুজালেমের কাছে ই-ওয়ান এলাকায় নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের পরিকল্পনা এবং বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাকে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হিসেবে দেখেছে দেশ তিনটি।
বৈঠকে কার্নি ওই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের সম্ভাবনা ধরে রাখতেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বৈঠকে বিশ্বনেতাদের শুধু সমর্থনের কথা না বলে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের সমর্থন বাস্তব পদক্ষেপে পরিণত না হলে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও কমবে। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের জন্য দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা ধরে রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
গত বছর কানাডা আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর আগে দেশটির নীতি ছিল ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার অগ্রগতির পর ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে থাকা। স্বীকৃতি দেওয়ার সময় কার্নি বলেছিলেন, বসতি সম্প্রসারণ ও গাজায় সামরিক অভিযান শাস্তিচুক্তির সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ফিলিস্তিনিদের জন্য কানাডার বড় অঙ্কের সহায়তার ঘোষণা এবারই প্রথম নয়। চলতি বছরের জুনে পশ্চিম তীর ও গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি মানবিক সহায়তার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার শাস্তি ও স্থিতিশীলতা কার্যক্রমে ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছিল।
Leave a Reply