গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন প্রজন্মকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান
মুন্সী হাবিবুল্লাহ: দীর্ঘদিন পর আবারও ঢাক-ঢোল আর বৈঠার ছন্দে মুখর হয়ে উঠল মাগুরার শালিখার ফটকী নদী। গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচকে ঘিরে শুক্রবার বিকেলে বড়শলুই ও দরিশলুই এলাকায় বসে প্রাণের উৎসব। নদীর দুই তীরে ঢল নামে হাজারো নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর ও দর্শনার্থীর।
বিকেল গড়াতেই ফটকী নদীর বুকজুড়ে শুরু হয় নৌকার দুরন্ত ছুটে চলা। বৈঠার তালে তালে প্রতিযোগীদের হুঙ্কার, ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন আয়োজন দেখতে দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকার একাধিক নৌকা অংশ নেয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিযোগিতা শেষে গঙ্গারামপুরের নৌকা প্রথম স্থান অর্জন করে। পরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন।
এছাড়া আড়পাড়া ইউনিয়ন থেকে উপস্থিত ছিলেন শালিখা উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং আড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোঃ নয়নুজ্জামান মুন্সী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের সমৃদ্ধ লোকঐতিহ্য, দেশীয় খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। নৌকাবাইচসহ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকসংস্কৃতির চর্চা আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, নৌকাবাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়; এটি বাংলার নদীমাতৃক জীবন, লোকঐতিহ্য ও গ্রামীণ সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ ধরনের আয়োজন মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক বন্ধন আরও দৃঢ় করে।
তিনি আরও বলেন, নদীর দুই কূলে হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই প্রমাণ করে-গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি ও বিনোদনের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনও অটুট। হারিয়ে যেতে বসা এসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া সবার দায়িত্ব।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ বিরতির পর ফটকী নদীতে নৌকা বাইচের আয়োজন করায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা।
নৌকা বাইচকে ঘিরে পুরো এলাকা পরিণত হয় মিলনমেলায়। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজারো দর্শকের উচ্ছ্বাস, করতালি আর বৈঠার ছন্দে ফিরে আসে গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা নৌকা বাইচের আবহ।
Leave a Reply