একতা ডেস্কঃ ইথিওপিয়ায় চলমান সংঘাত এবং সুদানের গৃহযুদ্ধসহ আফ্রিকার হর্ন অঞ্চলের উত্তেজনা কমাতে রাজনৈতিক ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে মিশর, ইরিত্রিয়া, সোমালিয়া ও সুদান। স্থানীয় সময় রবিবার (৪ অক্টোবর) মিশরের নিউ আলামিন শহরে বৈঠক শেষে চার দেশের নেতারা যৌথ ঘোষণায় এ আহ্বান জানান।
ঘোষণায় মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, ইরিত্রিয়ার প্রেসিডেন্ট ইসাইয়াস আফওয়ারকি, সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এবং সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান স্বাক্ষর করেন।
ইথিওপিয়া অভিযোগ করে আসছে, দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা সশস্ত্র জোটকে মিশর, ইরিত্রিয়া ও সুদান সমর্থন দিচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের কর্মকর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি বলেছিলেন, আন্তঃসীমান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনার পথ বেছে নেওয়া প্রয়োজন। ইথিওপিয়ার সাম্প্রতিক কয়েকটি নীতির বিপরীতে চার দেশের এই যৌথ অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে আদ্দিস আবাবা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা মতপার্থক্যের বিষয়টিও স্পষ্ট হয়েছে।
যৌথ ঘোষণায় সুদানের সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সুদানের পক্ষগুলোর নেতৃত্বে একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানানো হয়। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে যুদ্ধ চলছে। এ সংঘাতে পরস্পরের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের অভিযোগও রয়েছে সুদান ও ইথিওপিয়ার।
ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে, লোহিত সাগরের নিয়ন্ত্রণ উপকূলীয় দেশগুলোর হাতেই থাকা উচিত। উপকূলবিহীন ইথিওপিয়ার সমুদ্রপথে প্রবেশাধিকার ও নৌ-উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগের প্রেক্ষাপটেই এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ শনিবার আল-জাজিরাকে বলেন, সোমালিয়ার সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ইথিওপিয়া দেশটির বন্দর ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নিতে চাইলে মোগাদিশুর আপত্তি নেই।
এদিকে নীল নদের ওপর ইথিওপিয়ার ‘গ্র্যান্ড ইথিওপিয়ান রেনেসাঁ ড্যাম’ নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যেই মিশর ও সুদান এমন একতরফা পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে, যা ভাটির দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।
ইথিওপিয়ার ফেডারেল বাহিনী ও সাতটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর জোটের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। ওই জোটে টিগ্রায় পিপলস লিবারেশন ফ্রন্ট (টিপিএলএফ)-ও রয়েছে। টিপিএলএফ এর আগে সরকারের বিরুদ্ধে দুই বছর ধরে যুদ্ধ চালিয়েছিল। ২০২২ সালে একটি শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সেই সংঘাতের অবসান হলেও চুক্তিটি ছিল ভঙ্গুর।
রবিবার টিপিএলএফ জানায়, অন্য একটি স্থান থেকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তারা টিগ্রায়ের আঞ্চলিক রাজধানী থেকে সাময়িকভাবে সরে গেছে। এর পর সরকারি ও মিত্র বাহিনী মেকেলে শহরটি আবার নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইথিওপিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টিগ্রায়ের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক নেতা আব্রাহাম বেলে জানিয়েছেন, ফেডারেল সরকার ওই অঞ্চলের জন্য নতুন একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে আঞ্চলিক নির্বাচন আয়োজনেরও আশা করা হচ্ছে।
এদিকে ইথিওপিয়ার কর্মকর্তারা প্রতিবেশী ইরিত্রিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী জোটকে সরাসরি সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। তবে ইরিত্রিয়ার তথ্যমন্ত্রী ইয়েমানে গেব্রেমেস্কেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগটি অস্বীকার করে বলেছেন, ইথিওপিয়া ইরিত্রিয়ার ওপর হামলার অজুহাত তৈরির চেষ্টা করছে।
Leave a Reply