একতা ডেস্কঃ দেশে এলপিজি সরবরাহে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংকটের মধ্যেই ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দামে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ দাম কার্যকর হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি এলপিজির দাম ১৫৩ টাকা ৬ পয়সা এবং গাড়িতে ব্যবহৃত অটো গ্যাসের দাম প্রতি কেজি ৮৪ টাকা ৬২ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে গত মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। তবে সরবরাহ সংকটের কারণে বাজারে ভোক্তাদের ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত দিয়ে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিতে হয়েছে তাদের।
এলপিজি আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সংগঠন লোয়াবের তথ্য বলছে, আগস্টে দেশে ১ লাখ ৫৮ হাজার মেট্রিক টন এবং সেপ্টেম্বরে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে। এতে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন কোম্পানি এলপিজির সরবরাহ কমাতে শুরু করে। শুরুতে সরবরাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমানো হলেও পরে তা ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়। গত এক সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন কোম্পানির ডিপোর সামনে ডিলারদের ট্রাক অপেক্ষা করছে। এতে পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।
সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বিইআরসি ইতিমধ্যে ১২টি এলপিজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে পুরো মাসের আমদানি ও সরবরাহের দৈনিক তথ্য দিতে চিঠি দিয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে তথ্য জমা দিয়েছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশে পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানি হওয়ার পরও সরবরাহ কেন কমেছে, তা খুঁজে বের করা প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠান মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, এলপিজি মজুত করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে প্রতিদিনের সরবরাহের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি মাঠপর্যায়েও সেগুলো যাচাই করা হবে। নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তবে ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলমের অভিযোগ, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এলপিজির দাম বাড়ানো হয়েছে। মজুতের মাধ্যমে সংকট সৃষ্টি করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
খাতসংশ্লিষ্টদের ধারণা, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বাজারে সরবরাহ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এলপিজির বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।
দেশে প্রায় এক কোটি মানুষ জ্বালানি হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করেন। তাঁদের ব্যবহৃত এলপিজির প্রায় ৮০ শতাংশই রান্নার কাজে ব্যবহৃত হয়।
Leave a Reply