দেশ দেশই থাকে। মানুষ উপায় খোঁজে একটু শান্তিতে থাকার জন্য। দুবেলা দুমুঠো ডালভাত থেয়ে সুখনিদ্রায় রাত্রি যাপনের জন্য। আসলে প্রশ্ন হওয়া উচিত আমরা কোন পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছি। আজ সকালে কয়েকজন লোক আমার কাছে প্রশ্ন করেছিল দেশ কোনদিকে যাচ্ছে! আমি বলেছি দেশ দেশের জায়গাতেই আছে, থাকবেও। দেশের মানুষের ভাবনা ও চেতনার ওপর নির্ভর করে দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা কী বা কেমন হবে। বিশেষ করে যারা যখন ক্ষমতায় থাকে, তারা বিভিন্নভাবে গণমানুষকে মাতিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে দেশের কল্যাণের নামে, উন্নয়নের নামে নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত থাকে। যাতে মানুষ প্রতিবাদী হয়ে উঠতে না পারে। তারপরও যদি মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে বা তাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখে তাহলে রাষ্ট্রও ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিকে আগাতে বাধ্য হয়। দেশ কোনদিকে যাবে তা নির্ভর করে দেশের মানুষের ওপর তা আগেই বলেছি। আসলে দেশ পরিচলনার দুটি দিক থাকে। একটি পূঁজিবাদী বা ডানপন্থা, অপরটি সাম্যবাদী বা বামন্থা। পূঁজিবাদ বা ডানপন্থায় দেশ কেমন চলে আমরা তা ওয়াকিবহাল। এ পন্থায় সংকট নিরসনের দিকে না গিয়ে ক্রমাগত সঙ্কট আরো ঘনীভূত হচ্ছে বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকেই। তবে আমাদের দেশের এই সঙ্কট দূর করার জন্য পূঁজিবাদী ব্যবস্থা কি ব্যর্থ? মানুষের আস্থার জায়গা দিতে পারছে না পূঁজিবাদ। পূঁজিবাদের কূটকৌশলের কাছে প্রতিনিয়ত ঠকছে পরাজিত হচ্ছে দেশের জনগণ।
উদাহরণ স্বরূপ একটি ঘটনার উদ্ধৃতি এখানে না দিলেই নয়। কেবল দেশের মানুষ নয়, বহির্বিশ্বও জানে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট কী ঘটেছিল বাংলাদেশে। সেদিনের গ্রেনেড হামলায় কতজনের প্রাণ গিয়েছিল। আরো কতজন পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন যাপন করছেন এখন পর্যন্ত। আজ বলা হচ্ছে সেদিন তথা ২১ আগস্টে বাংলাদেশে এমন কোন ঘটনাই ঘটেনি। এটি ছিল গণমাধ্যমের কাল্পনিক কাহিনী। আসলেই কি তাই? হ্যাঁ, মানছি যেসব রাজনৈতিক নেতাদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল তারা সত্যিই নির্দোষ। হয়রানিমূলক উদ্দেশ্যে তাদেরকে মামলায় ঢোকানো হয়েছিল। তৎকালীন ক্ষমতাসীনরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এটা করেছিল। কিন্তু তার সুষ্ঠু তদন্ত করে আসল আসামীদের না খুঁজে পুরো ঘটনাটাকে অস্বীকার করার অর্থ কী দাঁড়ায়? দেশের মানুষ আসলে কোন ভবিষ্যতের দিকে যাচ্ছে! নিশ্চিত, না কি অনিশ্চিত ভবিষ্যত অপেক্ষা করছে বাঙালির জাতীয় জীবনে!
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply