আসলে সমালোচনা করার কিছু নেই। পরামর্শ তো অনিধিকার। যা হোক ও সব কিছু না। নিজের মতো নিজে একটু প্রলাপ বকার চেষ্টা মাত্র। আমাদের দেশ ও প্রতিবেশী ভারতের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করে আসছে সেই শেখ হাসিনার সরকারের পতনের সময় থেকেই। সেটি প্রকাশ্যে চলে এলো ইস্কন ইস্যু নিয়ে। পতাকা অবমাননা, বাংলাদেশী হাইকমিশনে হামলা ও ভাঙচুর সব মিলে বদনামের দিক দিয়ে বাংলাদেশকে পেছনে ফেলতে পারেনি ভারত। বরং কিছুটা এগিয়েই আছে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে ভারতের পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানি করা হবে না বলে ভয় দেখানো হলো। এক মুখ্যমন্ত্রী বললেন বাংলাদেশে শান্তিরক্ষী পাঠানো দরকার। কিভাবে বললেন জানি না। সে প্রতিবাদ ভারতের বুদ্ধিমান নেতারাই করেছেন। এজন্য তাঁকে অসংখ্য ধন্যবাদ। পশ্চিমবঙ্গের একজন বিজেপি নেতা ভারতের ময়লা আবর্জনা দিয়ে বাংলাদেশকে ঢেকে ফেলার হুমকিও দিলেন। আমার কাছে মনে হয়েছে যিনি এ ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি নিজেই ভারতবর্ষের আবর্জনা।
পশ্চিমবঙ্গীয় চিকিৎসকগণ সিদ্ধান্ত নিলেন বাংলাদেশী রোগীদের তারা চিকিৎসা দিবেন না। উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য ত্রিপুরার আবাসিক হোটেল ব্যবসায়ীরা ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশী কোন পর্যটককে তারা হোটেলে থাকতে দিবেন না। আবার কোন কারণ ছাড়াই পশ্চিমবঙ্গীয় চিকিৎসকগণ বাংলাদেশী রোগীদের চিকিৎসা বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেন।
যা হোক বেশি গভীরে যাওয়ার চেষ্টা করলে আবর্জনা কলঙ্ক থেকে কেউ হয়তো রেহাই পাব না। তবে আমাদের সবারই উচিৎ কথা বলার আগে মুখের লাগামটা একটু টেনে ধরা।
প্রসঙ্গতঃ যারা অখণ্ড ভারতকে ভেঙে খান খান করে, সাম্প্রদায়িক বিভাজন সৃষ্টি করে অস্থিতিশীল করে তুলেছে সমগ্র ভূ-খণ্ডকে। ময়লা আবর্জনার কথা তাদের মুখে মানায় না। তাদের মাথাতেই আবর্জনায় ভরা। অখণ্ড ভারতে সাম্প্রদায়িকতার কোন স্থান ছিল না। আর আজ প্রত্যেকটি স্বাধীন দেশ সাম্প্রদায়িক জটিলতায় ভুগছে। আর এই জটিলতা নিয়ে যারা মওকা লুটতে চান তারাই কিন্তু সাম্প্রদায়িক। এ সমস্যা বাংলাদেশের বাঙালি জাতির অস্থি মজ্জায় মিশে আছে। ভারতের একটি বৃহৎ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে অসাম্প্রদায়িক চেতনা। চলতি ঘটনা তার উৎকৃষ্ট প্রমান দিয়ে দিল। তা না হলে কেবল বাংলাদেশেই নয়, ভারতের মধ্যেও লেগে যেত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনা ওই সাম্প্রদায়িক চেতনাকে আবর্জনার মতোই ভাগাড়ে ফেলে দিয়েছে। স্যালুট করি সেই অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply