দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণে সারাবিশ্বের রাজধানী মহরগুলোর মধ্যে শীর্ষে অবস্থান করছে ঢাকা শহর। বিশ্বজরিপের লাগাতার খবর বেরুতে থাকলেও নড়ে বসছে না নগর প্রসাশন। কোন ভ্রুক্ষেপ নেই শহরের পরিবেশগত মান উন্নয়নের।
শহরের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে তৈরি ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল এমনকি নগরীর সড়কগুলোও। বিভিন্ন ধরণের বৃক্ষ রোপন করে দৃষ্টি নন্দন করা হয়েছে রাস্তার পার্কিং সাইড, দর্শনীয় স্থানগুলোও। কর্পোরেট বিল্ডিংগুলোর দিকে তাকালে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। কর্পোরেট মার্কেটের ভেতরে বাইরে এবং দৃষ্টি নন্দন রাস্তার পাশে হাঁটা চলার সময় বিদেশী পারফিউমের গন্ধ যেমন থাকে। তার চেয়ে বেশি ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত ময়লা এসে সেঁটে ধরে নাসারন্ধ্র। যেখানে পা ফেলবেন সেখানেই মনে হয় ময়লার ভাগাড়।
রাজধানী শহর ঢাকায় ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া, ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব লেগেই থাকে। পরিবেশ প্রতিকূলে থাকার কারণেই কেবল এত অসুস্থতা। এক সময় ঢাকাকে তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল। রশিকতাচ্ছলে এখনও কথাটা উঠে আসে প্রায়ই। আসলে বিষয়টি রশিকতায় না হয়ে যদি বাস্তবে, গৌরবের সাথে উঠে আসে তাহলে কেমন হতে পারে ঢাকার পরিবেশ! কতটা সুস্থ্য থাকতে পারে ঢাকার জনজীবন!
সাদা কাপড় পরে চকচকে রাস্তায় হেঁটে যদি ধুলো ঝেড়ে হাঁচতে হয়, কাশতে হয় তাহলে সে উন্নয়ন কখনোই গর্বের হয় না। একটি গর্বোজ্জল সত্যিকে স্বীকার করতেই হবে। তা হলো করোণা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব থেকে আমরা তথা আমাদের দেশ যথেষ্ট রক্ষা পেয়েছে। বিশ্বের উন্নত সকল দেশে যেভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল এই করোণা, যে হারে মানুষের গ্রাণ গেছে সেসব দেশে, সে তুলনায় আমরা যথেষ্ট ভাল ছিলাম। এর কারণ হয়তো বা দেশের ভৌগলিক অবস্থান। এর কারণ হতে পারে পরিশ্রমের মধ্যে থাকা অটুট দেহধারী মেহনতি জনতা। যারা পরিশ্রমী মানুষ তাদের দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকে।
আমাদের ঢাকা শহরের মানুষেরা বেশিরভাগই অত্যন্ত পরিশ্রমী। তারপর আরো যদি ঢাকা শহরকে নোংরা তালিকা থেকে মুছে দেয়া যায়, তাহলে শহর থেকে রোগ ব্যধির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশের মানুষ দেশে থেকেই অসুস্থ হয়। চিকিৎসা নিতে যেতে হয় বিদেশে। এতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। এদেশের অসুস্থ রোগীরা সীমান্ত পেরিয়ে কলকাতা থেকে শুরু করে মাদ্রাজ ভেলোর পর্যন্ত বাংলাদেশের রোগীর কমতি নেই। তাতে লাভবান হয় ভারত, তার উৎকৃষ্ট প্রমান বাংলাদেশ ভারতের চলমান সঙ্কট। নিজেরা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নিজেরাউ তা তুলে নিচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কতটা লোকসান হলো সে হিসেব কষে তবেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত ভারতের।
আসলে এর মধ্যে ভারতের বিষয়টি তুলে ধরাটা অপ্রাসঙ্গিক। তবুও তুলে ধরার উদ্দেশ্যটা বিদ্বেষ ছড়ানো নয়। সেটিতে নিতান্তই জাতীয় সার্থ জড়িত। কারণ প্রতিদিন আমাদের দেশ থেকে চিকিৎসাজনিত কারণে যতটাকা ভারতে বা অন্য কোন দেশে যায় সেই অর্থ সাশ্রয়ের জন্য একটু সচেতন বার্তা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা মাত্র।
মানবদেহের প্রধান অঙ্গ যেমন মাথা। তেমনি দেশের প্রধান প্রতিষ্ঠান হলো রাজধানী। মাথা অকেজো হলে যেমন পুরো মানবদেহ অকেজো হয়ে যায়, তেমনি রাজধানী সচল থাকলে সারাদেশ সচল থাকবে। তাই রাজধানীকে আগে নোংরামুক্ত হয়ে উদাহরণ হয়ে দাঁড়াতে পারলে সারাদেশ তাকে অনুস্মরণ করবে। এজন্য নোংরা তালিকা থেকে ঢাকা শহরের নাম মুছে দিতে নগর প্রসাশনকে জরুরী পদক্ষেপ নিতে হবে।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply