শোষণ বঞ্চণা বৈষম্যহীন বিশ্ব গড়ার লক্ষ্যে যারা আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন, বৈশ্বিক সঙ্কট নিরসনের জন্য নানা সময়ে নানা রকমের পদ্ধতি, মতবাদ তৈরি করে গেছেন তার মধ্যে মানুষের সবচেয়ে বেশি কল্যাণ জনক হয়েছে সাম্যবাদী মতবাদ। আর এ মতবাদের একজন স্রষ্টা বিপ্লবী দার্শনিক মাও সেতুং। সমাজতান্ত্রিক সংগ্রামকে এগিয়ে নিতে যে সব মহান নেতা জন্ম নিয়েছিলেন তারা সারাজীবন লাঞ্ছণা বঞ্চণা সহ্য করেই সংগ্রামে উৎসর্গ করেছিলেন তাদের জীবন।
চির বিপ্লবী কমরেড মাও সেতুং-এর জন্ম হয়েছিল ১৮৯৩ সালে। চীনের হুনান প্রদেশের শাউ শাং চুং গ্রামের এক কৃষক পরিবারে। ছোটবেলার পূর্ণ নাম ছিল মাও জেন শেং (শুন সেন)। ১৯০১ সালে ৮ বছর বয়সে মাও গ্রামের পাঠশালায় ভর্তি হন এবং ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত ওই পাঠশালায় লেখাপড়া করেন। ১৯০৬ সালে মাওয়ের গ্রামের পড়াশোনা শেষ হয়। এরপর তার বাবা তাকে সৈন্যদলে ভর্তি করানোটাকে লাভজনক মনে করেন। তার আগে মাওয়ের সঙ্গে ১১-১২ বছরের একটি মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়। ১৯২৯ সালের জানুয়ারিতে মাও সেতুং এবং চু দুই হাজার লোক ও পেং দ্বারা সরবরাহিত আরও ৮০০ লোকের ঘাঁটি সরিয়ে নিয়েছিল এবং তাদের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণের জিয়াংসির টলু ও জিনফেংয়ের আশপাশে নিয়ে যায়। ১৯৩০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মাও তার নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে দক্ষিণ-পশ্চিম জিয়াংসি প্রাদেশিক সোভিয়েত সরকার তৈরি করেছিলেন। গণপ্রজাতন্ত্রী চীন ১৯৪৯ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এটি ছিল দুই দশকেরও বেশি গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধের চূড়ান্ত পরিণতি। মাওয়ের বিখ্যাত উক্তি ‘চীনা জনগণ উঠে দাঁড়িয়েছে। ১৯৭৬ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মাও সেতুং মারা যান।
ফ্রান্সের সাহিত্যিক ফুকুমা প্রথমে একটি গল্প লিখেছিলেন তাতে সমাজতন্ত্রের পূর্ণ রূপরেখা দেয়া ছিল। পাঠকদের মতে সেটি ছিল কাল্পনিক সমাজতন্ত্র। মানুষের ধারণা ছিল এই কল্প কাহিনী বাস্তবে কখনো সম্ভব না। কিন্তু কমিউনিস্টপন্থী এসব মহান নেতারা সেই কাল্পনিক সমাজতন্ত্রকে বাস্তবে রূপ দেয়ার সংগ্রামের পথ বেছে নিয়েছিলেন। যা ছিল সম্পূর্ণ গতানুগতিক ধারার বিপরীতে। চীনা বিপ্লবী মাও সেতুং তার দেশের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করতে বেছে নিয়েছিলেন সশস্ত্র সংগ্রামের পথ। জয়ী হয়েছিলেন সে সংগ্রামে। তাদের সেই বার্তা সারাবিশ্বে পৌঁছে দিতে গড়ে তুলেছিলেন আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট পার্টি।
মাও সেতুং-এর কমিউনিজম নিয়ে লেখা অনেক সাহিত্য কর্ম রয়েছে। তার মধ্যে একটি থেকে একটি ছোট্ট কাহিনী এমন ছিল যে, একজন আধা বয়সী লোক একটি কোদাল দিয়ে দৈনিক পাহড় কাটে। সারাদিন তার কেবল পাহাড় কাটার কাজ। একদিন তার কিশোর বয়সের ছেলেটি গিয়ে বাবাকে পাহাড় কাটতে দেখে বিষ্ময়ের সাথে প্রশ্ন করে বাবা, কোদাল দিয়ে কি পাহাড় কাটা সম্ভব! এ তুমি কী করছো বাবা? তুমি পাগল হয়ে যাওনি তো? ছেলের প্রশ্নের জবাবে বাবা বলছেন, কেন পারা যাবে না? আমি যে কয়দিন আছি কেটেই যাব। যখন আমি থাকব না, তখন কোদাল নিবি তোর হাতে। এভাবে কাটতে কাটতে একদিন হবেই।
এ কাহিনীর মধ্য দিয়ে মাও বোঝাতে চেয়েছেন কমিউনিস্ট রাজনীতি এবং কাঙ্খিত বিপ্লব হঠাৎ এস পড়ে না। দীর্ঘ সময় ধরে অধিক ধৈর্যরে সাথে সেটিকে গড়ে তুলতে হয়। তার এই মন্ত্র কাজে লাগিয়েই এক সময়ের অবহেলিত কমিউনিজম এখন সারাবিশ্বে বিস্তার লাভ করছে। জয়তুঃ কমিউনিজমের অন্যতম জনক চির বিপ্লবী কমরেড মাও সেতুং।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply