একতা ডেস্কঃ গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মিউতে এগেদে ৩ জানুয়ারি, শুক্রবার তার ভাষণে ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘ঔপনিবেশিক যুগের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এ সময়, যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ গ্রিনল্যান্ড কেনার ব্যাপারে পুনরায় উঠে এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।
তিনি বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের নিজস্ব অধিকার ও স্বতন্ত্র সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ডেনমার্কের সাথে দীর্ঘদিনের সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগ করেছেন যে, তারা গ্রিনল্যান্ডের সাথে পূর্ণ সমতা প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ১৯৭৯ সাল থেকে গ্রিনল্যান্ডে স্বশাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও, ডেনমার্ক এখনও দ্বীপটির জন্য বার্ষিক ৫০০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান প্রদান করে।
ট্রাম্পের আগ্রহের বিষয়ে এগেদে বলেন, “এটি বিক্রি হওয়ার জন্য নয়, কখনোই হবে না,” বলে তিনি এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। ২০১৯ সালে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ড কেনার প্রস্তাব দেন, যা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার পথচলা শুরু হতে পারে আগামী এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য সংসদীয় নির্বাচনের সময়। তিনি জনগণকে স্বাধীনতার লক্ষ্যে একত্রিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের কাঠামো তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।”
ডেনমার্ক সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডে প্রতিরক্ষা খাতে ১.৩ (€) বিলিয়ন বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে। যদিও ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ট্রলস লুন্ড পাউলসেন এটিকে কাকতালীয় বলে দাবি করেছেন, তবে এটি ট্রাম্পের আগ্রহের পরে এক ধরনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা যাচ্ছে। গ্রিনল্যান্ডের জনগণ এখনও তাদের ভবিষ্যতের দিকে একত্রিত হয়ে সম্ভাব্য স্বাধীনতার দিকে পথচলা শুরু করতে পারে, এবং এই নির্বাচন গ্রিনল্যান্ডের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হতে পারে।

Leave a Reply