একতা ডেস্কঃ তীব্র আন্দোলনের তোপে পালিয়ে ভারতে যাওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। দেশটির শীর্ষস্থানীয় দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস খবর দিয়েছে, শেখ হাসিনার ভারতবাস দীর্ঘায়িত করার অংশ হিসেবে তাঁর ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
মূলতঃ সংসদ বিলুপ্তির পর শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্টের কার্যকারিতা হারিয়েছে। সম্প্রতি তাঁকেসহ ৯৭ জনের পাসপোর্ট অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করেছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, ভারত সরকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোন পাসপোর্টের অধীনে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে?
নাম গোপন রাখার শর্তে বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বাতিল পাসপোর্টে ভিসা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কীভাবে ভারত মেয়াদ বাড়াল তা পরিষ্কার নয়। অবশ্য কারও একাধিক দেশের পাসপোর্ট থাকলে সেটি ভিন্ন কথা। তবে বাংলাদেশের আইনে একই সঙ্গে লাল ও সাধারণ পাসপোর্ট ব্যবহার বেআইনি। লাল পাসপোর্ট পেতে হলে সাধারণ পাসপোর্ট জমা রাখতে হয়। গুম, গণহত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে বিচারের সম্মুখীন করতে হাসিনার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ২৩ ডিসেম্বর হাসিনাকে ফেরত পাঠাতে ভারতের কাছে চিঠি দেয় বাংলাদেশ। এমন প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর তথ্য পাওয়া গেল।
হিন্দুস্তান টাইমসের খবরে দিল্লি ঠিক কবে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়েছে এবং কত দিনের জন্য, তা উল্লেখ নেই। পত্রিকাটি লিখেছে, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) শেখ হাসিনার ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিল। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্র জানায়, শেখ হাসিনার কূটনৈতিক পাসপোর্ট গত বছর ২১ আগস্ট বাতিল করে অন্তর্বর্তী সরকার, ১০ বছরের জন্য যেটি ইস্যু করা হয় ২০২০ সালের ১৯ জানুয়ারি। অবশ্য আইন ও সংসদবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদ ভেঙে দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংসদ সদস্যদের কূটনৈতিক মর্যাদার লাল পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রেসিডেন্ট পারমিটের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ভারতে দীর্ঘদিন অবস্থান করছেন বাংলাদেশের নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন। এটির মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণও করতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, শেখ হাসিনা একইভাবে ভারতে অবস্থান করছেন।

Leave a Reply