ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ সুনামগঞ্জের ছাতকে ধীরগতিতে চলছে হাওড়ের বোরো ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ। ফলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাওড় পাড়ের কৃষকরা। আগামী ২৮ ফেরুয়ারির মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করার নির্দেশ থাকলেও তা মানা হচ্ছেন না। বেড়িবাধে প্রকল্পের টাকা লুটপাট করতে প্রভাষক হয়েছেন পিআইসি কমিটির কৃষক। জানা গেছে, ছাতকে হাওড়ে বোরো ফসল রক্ষা বাঁধের জন্য ২৮টি পিআইসি রয়েছে। বরাদ্দ হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রায় দেড় মাস আগে বাঁধের কাজ শুরু হয়। এ মাসের ২৮ তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। ধীরগতিতে কাজ হওয়ায় এ পর্যন্ত অধিকাংশ বাঁধের কাজ ৫০ ভাগ হয়নি। বৃষ্টি শুরু হয়ে গেলে বাকী কাজ যথা সময়ের মধ্যে সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফলে অপূরণীয় ক্ষতিও হতে পারে। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন হাওড়ের ফসল রক্ষাবাঁধ ঘুরে এবং কৃষকদের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সরকার কৃষকদের বোরো ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এ বরাদ্দকৃত অর্থ অনুযায়ী সময়মতো টেকসই কাজ করা হলে এক মাত্র বড় ধরণের প্রাকৃতিক দূর্যোগ ছাড়া ফসলের ক্ষতির কারণ নেই।
পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) গঠনে মাঠ পর্যায়ে ঘুস লেনদেনের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, উপজেলার চরমহল্লা ইউনিয়নের চানপুরের ৭ নং পিআইসিতে ৬০৫ মিটার ডুবন্ত বাঁধ ঢালা বন্ধকরন কাজে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ১শত ১৩ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বুকী নদীর পাড় দিয়ে প্রায় দেড়মাস অতিবাহিত হলেও বাঁধে কাজ হয়েছে মাত্র ২০-২৫ ভাগ। বাঁধে পর্যাপ্ত মাটি দেওয়া হয়নি। রাস্তা কুড়ে মাটির লেপন দিয়ে কাজ সমাপ্ত করার চেষ্টায় পিআইসি কমিটি সদস্যরা। এমনটাই বক্তব্য দিয়েছেন স্থানীয় অনেকেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ফসল রক্ষা বাঁধ নিয়ে কোনো অভিযোগ না আসে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের (ডব্লিউএমজি) আওতায় আনা সম্ভব হলে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে কোন অভিযোগ আসবে না। তাই ডব্লিউএমজির আওতায় এলাকার সব কৃষককে পৃথকভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।
Leave a Reply