মিডিয়ায় চোখ পড়তেই হাহাকারে বুক ভরে উঠতে শুরু করেছে ইদানিং। কেবলই নথি গায়েব। গায়েব হওয়া নথি মিলছে ভাঙাড়ির দোকানে। প্রথমে পুড়লো সচিবালয়। তারপর চট্টগ্রামের আদালতের বারান্দা থেকে নথি গায়েব। বরিশালের গাড়িতে পাওয়া গেল চুরি যাওয়া নথি। সর্বোচ্চ কার্যালয় থেকে রাজাকারের তালিকা গায়েব। এসব হচ্ছেটা কী?
এতসব প্রশ্ন তোলপাড় করে তুলছে মানুষের মন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার যা করে গেছে তার জন্য তারা উঠতে বসতে গালি খাচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে। বোদ্ধাজনদের গঠনমূলক সমালোচনার সাথে সাথে বিষোদ্গারও থাকছে কম না। শেক হাসিনার সরকার অর্থ লুটপাট করেছে, গণমানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করেছে। মানুষের সর্বশেষ সম্বল ভোটের অধিকার, তাও লুট করে নিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার। তার পরিণতি কী হলো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিগত সরকারের সময়ে গায়েব হতো বিরোধী দলের নেতারা। স্বৈরাচার সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদীরা। আর এখন গায়েব হচ্ছে সাধারণ মানুষের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রকল্পের নথিপত্র। সারাদেশের কাজের নথিপত্র, তার মানে সারাদেশের উন্নয়ন তার মধ্যেই থাকার কথা। সেই সব কাগজপত্র গায়েব হওয়া মানে তো দেশের উন্নয়ন গায়েব হওয়া। এক কথায় বলা যায় দেশই গায়েব হয়ে যাওয়ার পথে।
তাহলে শেখ হাসিনাকে গালি দিয়ে কী লাভ? এ প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মনে দানা বাঁধতে শুরু করেছে। হাঁটে বাজারে চায়ের দোকানে ঠিক এমন কথাই উঠে আসছে। তারা বলতে শুরু করেছেন, ‘শেখ হাসিনাকে আর গালি দিতে মন চায় না।’ তাহলে এখন সাধারণ মানুষের ক্ষোভটা ঠিক কোনদিকে ধাবিত হচ্ছে!
আসলে দেশের উন্নয়ন নিয়ে ভাবনাটা খুব কম হচ্ছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ভূমিকার কুশীলবদের চেতনায়। তাদের মধ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন খাতে পরিবর্তনের কথা উঠে আসছে। আসলে এখানে প্রশ্ন হলো, এসব পরিবর্তন কি উন্নয়নের পথে কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে? না কি কেবল প্রতিহিংসার কারণ এটি! তাহলে আজ আমরা যে নথি গায়েবের রমরমা দেখতে পাচ্ছি, একদিন কি ঠিক এভাবেই দেখবো যে, জাতীয় সঙ্গীত গায়েব হয়ে গেছে, জাতীয় পতাকা গায়েব হয়ে গেছে, এমন কী এক সময় দেখা গেল দেশটাই গায়েব হয়ে গেল।
আমরা দেড় দশক ধরে গায়েবী সংস্কৃতিতে বসবাস করছি। গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে বিজয় লাভের পর আমরা বড় আশায় বুক বেঁধেছিলাম যে, আমরা গায়েবের অপসংস্কৃতি থেকে নিস্তার পেলাম। বাস্তবে আমাদের এ স্বপ্ন দুঃস্বপ্নে পরিণতি হয়ে গেল রাতারাতি। বিজয়ের পাঁচ মাস পার হয়ে গেলেও আমরা আমাদের চলার পথ কেমন হবে তার কোন সঠিক রূপরেখা দেখতে বা জানতে পারলাম না। কেবলই অপেক্ষা, আর গায়েব। সেই পুরনো পচলাতেই আবদ্ধ হয়ে আছি আমরা এখনো। এই পথচলা কি আসলেই শেস হবে, না কি চলতেই থাকবে?
পরিশেষে বলতে হয়, এ পথের তো শেষ হতেই হবে। আর যত যা-ই হোক। মানষের জীবন দান, শহীদের আত্মাহুতির মতো মহান ত্যাগকে আমরা প্রহসন হিসেবে উপস্থাপন করতে পারি না দেশ জাতি তথা বিশ্ববাসীর সামনে। ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের গৌরবকে সমুন্নত রেখে ’২৪ এর বিজয়ের প্রেরণাকে উজ্জীবিত রেখে আমাদের পথচলাকে ঠিক করে নেয়ার এখনই মোক্ষম সময়।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply