একতা ডেস্কঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থদাতা দেশ যুক্তরাষ্ট্র এবার অন্যান্য দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর থেকে এটি তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ পড়তে যাচ্ছে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট” নীতির কষাঘাতে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর কোনো আর্থিক সহায়তা পাওয়া যাবে না। এখন প্রশ্ন, এর কী প্রভাব পড়বে বাংলাদেশের উপর?
দেশটিতে অনেক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা রয়েছে, যেগুলো জলবায়ু, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করে থাকে। মার্কিন ফেডারেল সরকারের অর্থায়নেই চলে এসব সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর এসব সংস্থায় লক্ষ কোটি ডলারের সহায়তা ও ঋণ প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার। মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্ত এসব সংস্থার জন্য বড় একটি ধাক্কা। এর প্রভাব বাংলাদেশে নানা খাতে পড়তে পারে, যেমন খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, সুশাসন, শিক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণসহ অন্যান্য প্রকল্পগুলো। এছাড়া সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কর্মীরাও পড়তে পারেন বিপদে। তবে, রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি কার্যক্রমের অর্থায়ন বজায় থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
ডা. শামীম হায়দার বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫৩ বছরে আমেরিকা বাংলাদেশকে এই সহযোগিতাগুলো প্রদান করে আসছে। এসব সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারণ এবং ভবিষ্যৎ পলিসি মেকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, বিশেষ করে মাতৃস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য ক্ষেত্রে। এখন যদি আসলেই অর্থায়ন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে আমাদের দ্রুত বিকল্প সহযোগী খুঁজে বের করতে হবে, যাতে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের ক্ষতি কমানো যায়। এ সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু নতুন চ্যালেঞ্জও সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে আর্থিক সহায়তার উপর নির্ভরশীল যেসব প্রকল্প চলছে, সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে বা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

Leave a Reply