একতা ডেস্কঃ দেশের প্রান্তস্থিত বাঁওড় জলাভূমির বৃহৎ অংশ ঝিনাইদহ জেলা ঘিরে রয়েছে। জেলা সদর ছাড়াও শৈলকূপা, হরিণাকুন্ডু, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় বড়-ছোট অনেকগুলো বাঁওড় ঘিরে বংশপরম্পরায় জেলে সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস। ইজারার অভিঘাতে বাঁওড়সহ দেশের সকল জলমহালের জেলেপল্লীর মানুষগুলো জীবিকা থেকে উচ্ছেদের শিকার হয়েছে। বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও গবেষক সুজন বিপ্লব বলেন, মৎস্যজীবী কে? বংশপরম্পরায় জন্মসূত্রে যে জেলে, জলে মাছ ধরে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে, এ মানুষই প্রকৃত মৎস্যজীবী জেলে। এ প্রতিবেদককে তিনি আরো বলেন, ইজারা বাতিল করে বাঁওড় মৎস্যজীবীদের প্রথাগত ও ন্যায়সঙ্গত মালিকানার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মাছ ধরার অধিকারসহ জেলেদের স্বার্থে জলমহাল নীতিমালা প্রনয়ণ করার দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক। বাঁওড় জলাভূমি সন্তান মৎস্যজীবী জেলে জনগোষ্ঠীর ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া ও অধিকার নিশ্চয়তা বিধানে দেশের সকল বাঁওড় মৎস্যজীবী জেলেদের সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা প্রতিষ্ঠা করে স্থায়ী সমাধানে জলমহালে আইন ও নীতিমালা প্রণয়নের বিকল্প নেই।
২০২২ খ্রিস্টাব্দের বঞ্চনা শিকার ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর-মহেশপুরের বলুহর, জয়দিয়া, কাঠগড়া, ফতেপুর, কালীগঞ্জের মর্জাদ ও যশোরের বেড়গোবিন্দপুরসহ ৬টি বাঁওড় পাড়ের ৫ হাজার জেলে পরিবারের ৩০ হাজার মানুষ মানবেতর জীবনযাপনে পতিত হয়। এ বঞ্চনায় ফুঁসে ওঠে বাঁওড়ের মৎস্যজীবী জেলে নারী, পুরুষ, শিশু, কিশোর ও যুবকেরা। বর্ণিত বাঁওড় ছাড়াও অন্যান্য সকল বাঁওড়ের হাজার মানুষ বিগত সরকারের আমলে বাঁওড়ের মালিকানা হারিয়ে পথে বসেছে। দেশব্যাপী চলমান বাঁওড় আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সচিবালয়ে জেলে প্রতিনিধি বৈঠকে ঝিনাইদহের বাঁওড়সহ সকল জলমহালে ইজারা বাতিল করে সারাদেশের কোটি জেলে সম্প্রদায়ের অনুকূলে জলমহাল নীতিমালায় রাষ্ট্রীয় তদারকি ও অর্থায়নে সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা ৪ দাবি মেনে নিতে আশ্বস্ত করেছেন সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আক্তার। ২০২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে আন্দোলনরত বাঁওড় জেলেদের জাতীয় প্লাটফর্ম-বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলন আয়োজিত রাজধানী ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সারাদেশের বিভিন্ন জেলার বাঁওড় অঞ্চলের প্রতিনিধিরা বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে গত ১২ মার্চ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোতে স্মারকলিপি পেশ করা হয়। ঢাকায় সচিবালয়ে মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাঁওড় মৎস্যজীবী জেলে প্রতিনিধিদের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইজারা বাতিল ও জলমহালের জেলেদের সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানা দাবিতে লিখিত স্মারক লিপি গ্রহণ করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জনাব ফরিদা আক্তার। এসময় বৈঠকে বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের প্রতিনিধি ছিলেন, বলুহর বাঁওড় জেলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নির্মল হালদার, সদস্য সচিব সুজন বিপ্লব, আন্দোলনের উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. ফজলুর রহমান, বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের অন্যতম উপদেষ্টা জয়দিয়া বাঁওড় জেলে নিত্য হালদার, সংগঠনটির অন্যতম কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক বলুহর বাঁওড় জেলে বাসুদেব বিশ্বাস ও যুগ্ম আহ্বায়ক আবু তোয়াব অপুসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বাঁওড় আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ জানান, ইজারাপ্রথায় জেলেদের জীবিকা হারানোয় বিদ্যমান সংকট সমাধানে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতার দাবি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে বলে মাননীয় উপদেষ্টা সভায় সম্মতি প্রকাশ করেছেন।
বাংলাদেশ বাঁওড় মৎস্যজীবী আন্দোলনের আহ্বায়ক নির্মল হালদার বলেন, প্রচলিত ইজারা বাতিল করে বাঁওড় জলমহালে প্রকৃত মৎস্যজীবী জেলেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সমাজভিত্তিক সমবায় মালিকানার জলমহাল নীতিমালা বাস্তবায়নে ৪ দফা দাবিদাওয়া মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টাকে সরাসরি বলে এসেছি। তিনি আমাদের দাবির যৌক্তিকতা বিবেচনা করে একাত্মতা পোষণ করেছেন।

Leave a Reply