একতা ডেস্কঃ ২০১০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৯০টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব সভার মাধ্যমে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তি ও যাচাই-বাছাই করা হয়। জানুকা বলছে, এ সময় সভাগুলোতে ১৮ হাজার ১৬৮ জনকে নতুন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে। একই সময়ে পাঁচ হাজার ৯৮৭ জন অমুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সুপারিশও করা হয়েছে। এ সময় অনুক্তিযোদ্ধা হয়েও মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লেখানোর বেশ কিছু অভিযোগও উঠেছে। এসব ঘটনায় উল্লেখযোগ্য শাস্তি না হলেও কারো কারো সনদ বাতিল করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে নতুন করে অমুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা যাচাই-বাছাই করার ঘোষণা দেওয়া হয়।
সেই লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা পরিবর্তনসহ জানুকা আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত ২ ফেব্রুয়ারি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর খসড়া উন্মুক্ত করা হয় মতামতের জন্য। খসড়া অধ্যাদেশে প্রস্তাবিত নতুন সংজ্ঞা অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী, পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী দ্বারা নির্যাতিত নারী (বীরাঙ্গনা) এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী ফিল্ড হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও চিকিৎসা সহকারীরা বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গণ্য হবেন।
রণাঙ্গনের যোদ্ধা, বীরাঙ্গনা ও ফিল্ড হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাদানকারীদের সঙ্গে মুজিবনগর সরকারও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাবে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম। তবে অন্যরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী হিসেবেই থাকবেন। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সময় যাঁরা প্রবাসী সরকারে ছিলেন (মুজিবনগর সরকার) তাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেই স্বীকৃত হবেন। তবে এমএনএ-এমপি তো সবাই মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না. তাঁরা সহযোগী হিসেবেই থাকবেন। সরকারটাই মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃত হবে। খসড়ার এই জায়গাটা সংশোধন হবে। সরকার যুদ্ধ পরিচালনা করেছে, সরকার তো থাকবেই।
বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে ফারুক-ই-আজম বলেন, ‘২৬ মার্চের কথা আমরা আলোচনা করেছি, কিন্তু সময় নির্ধারণ করে দিইনি। এটার একটা সুনির্দিষ্ট তারিখ আমরা দিয়ে দেব যে এত তারিখের ভেতর যদি তাঁরা চলে যান তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধে আর কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। আমি মনে করছি, এই সুযোগটা দিলে অনেকেই (অমুক্তিযোদ্ধা) সরে যাবেন।
Leave a Reply