একতা ডেস্কঃ এবার শারদীয় দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি বাড়িয়ে তিন দিন করা হয়েছে। এর সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নেতারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ছুটি বাড়ানোর বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি ছিল এক দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আরও এক দিন ছুটি বাড়ানো হয়। এবার আরও এক দিন বাড়ানো হয়েছে। ফলে পূজায় সরকারি ছুটি তিন দিনে দাঁড়িয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০ অক্টোবর মহানবমী ও ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটির সঙ্গে ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নির্বাহী আদেশে ছুটি যোগ হয়েছে। এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা পাঁচ দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।
এদিকে দুর্গাপূজা শাস্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং ব্যবস্থা চালু থাকবে।
পাশাপাশি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য জানাতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের(এনটিএমসি) একটি অ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পূজামণ্ডপে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হলে বিকল্প হিসেবে জেনারেটর প্রস্তুত রাখতে হবে। কোনো কারণে জেনারেটরও কাজ না করলে চার্জার লাইটসহ বিকল্প আলোর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সবার সহযোগিতা ও নজরদারির মাধ্যমে এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কোনো পূজামণ্ডপকে এখন পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা ভালনারেবল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো ভালনারেবল বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও নজরদারি রয়েছে এবং সবাই সতর্ক অবস্থায় আছে। কোনো মণ্ডপ ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply