একতা ডেস্কঃ ই. জিন ক্যারল জয়ের পথে। আদালতে আবারও পরাস্ত হলেন ট্রাম্প। যৌন নিগ্রহের অভিযোগে আদালত তাকে দায়ী সাব্যস্ত করে নির্দেশ দিয়েছেন, তিনি অভিযোগকারী লেখিকা ই. জিন ক্যারলকে ৮৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দেবেন। ট্রাম্প আইনি মারপ্যাঁচে এই রায় থেকে মুক্তি পেতে ‘প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটি’ দাবি করেছিলেন, যা আদালত খারিজ করে দিয়েছে। লেখিকা ই. জিন ক্যারল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুক্তির বিরুদ্ধে দৃঢ় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলছেন, ট্রাম্পের দাবি যে, তার প্রেসিডেন্ট থাকার কারণে $83 মিলিয়ন জরিমানা দিতে তাকে মুক্তি দেওয়া উচিত। এটি একেবারেই অযৌক্তিক। ক্যারল মনে করছেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সঙ্গে তার কোনো সরকারি কাজ ছিল না। এটি ছিল একটি ব্যক্তিগত আক্রমণ। যখন ট্রাম্প তার ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে মানহানির শিকার করেছিলেন।
৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প গত সেপ্টেম্বরে এই বিশাল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তিনি দাবি জানিয়েছিলেন যে, প্রেসিডেন্ট হিসেবে তিনি সম্পূর্ণরূপে ইমিউন, কারণ তার দাবি করা বক্তব্যগুলো, যেখানে তিনি কখনো ক্যারলকে দেখেননি এবং তার অভিযোগগুলোকে “ধাপ্পাবাজি” ও “মিথ্যা” বলেছিলেন। সেগুলো তার অফিসের দায়িত্বের অংশ ছিল। তবে ক্যারল এটাকে শুধুমাত্র তার ব্যক্তিগত আক্রমণ বলে মনে করছেন। যা তাকে ন্যায্যতার বাইরে অবমাননা করেছে।
ট্রাম্পের আইনজীবীরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে যুক্তি দেন যে, প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তার মন্তব্য ‘রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ’ এবং এজন্য তার ‘সম্পূর্ণ দায়মুক্তি’ রয়েছে। কিন্তু ক্যারলের আইনজীবী রবার্টা ক্যাপলান আদালতে যুক্তি তুলে ধরেন যে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে কোনো সরকারি নীতি নিয়ে কথা বলেননি; বরং তিনি ক্যারলকে অপমান করেছেন, যা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত আচরণ। আদালতও এই যুক্তিকে গ্রহণ করেছে এবং ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটি খারিজ করেছে।
ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া রায় বহাল থাকায় তাকে ৮৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতেই হবে, যদি না সুপ্রিম কোর্ট থেকে তিনি কোনো রেহাই পান। তবে এই রায় তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে বড় ধাক্কা হয়ে উঠতে পারে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড়ে থাকা ট্রাম্প কি এই আইনি জটিলতা সামলে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে পারবেন, নাকি তার ভবিষ্যৎ আরও কঠিন হয়ে উঠবে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Leave a Reply