একতা ডেস্কঃ আইনে রাজধানী ঢাকার ভেতর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ি চলাচলের সুযোগ নেই। বাস্তবতা হচ্ছে- কেবল গাড়ি চলাচল নয়, নগরীর ভেতরেই আন্তঃজেলা টার্মিনাল রয়েছে তিনটি। এগুলো রাখার জায়গাও যেন প্রধান সড়ক, যা কোনোভাবেই আইনসিদ্ধ নয়। এসব কারণে পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর হচ্ছে না। উপরন্তু যানজট বাড়ছে। তাই রাজধানীর উপকণ্ঠে চারটি স্থানে নতুন করে বাস টার্মিনাল করার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রথমে ১০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়। প্রাথমিকভাবে চারটি স্থানে কার্যক্রম শুরু হবে। তবে প্রক্রিয়াটির গতি বাড়ানো দরকার বলে মনে করছেন পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আখতার বলেন, নগরীর টার্মিনাল স্থানান্তর ও সংস্কার নিয়ে কাজ চলছে। একাধিক সংস্থা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। জানা গেছে, কাঁচপুর (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে), বাঘাইর (ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দক্ষিণে-ঝিলমিল), হেমায়েতপুর (ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে) ও গ্রাম ভাটুলিয়া (এমআরটি-৬ এর ডিপোর সঙ্গে) এই চারটি টার্মিনাল-ডিপো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এসব স্থানে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল নির্মিত হলে সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনালগুলো সিটি বাস টার্মিনালে পরিণত হবে। এ ছাড়া ঘাটারচরে আরেকটি সিটি বাস টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে এটির জমি অধিগ্রহণের কাজ চলছে।
কাঁচপুর বাস টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণের লক্ষ্যে বিশদ নকশা প্রস্তুতের জন্য পরামর্শক নিয়োগ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট এ কার্যক্রম শুরু হয়। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের জন্য নির্ধারিত কাঁচপুরের জমিটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর থেকে ডিএসসিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিগগির সেখানে অস্থায়ীভাবে আন্তঃজেলা বাস রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। এ ছাড়া বাঘাইরের জমিটি অধিগ্রহণের জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়ার কাজ শুরু করেছে ডিএসসিসি। হেমায়েতপুর ও ভাটুলিয়ায় বাস টার্মিনাল ও ডিপো দুটি নির্মাণ করবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর অংশ হিসেবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে প্রকল্প নিতে চাইছে সংস্থাটি। তাই পিপিপি ও জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকার উপকন্ঠে নতুন করে আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের নির্মাণ সম্পন্ন হলে বিদ্যমান সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী হবে সিটি টার্মিনাল। ডিএসসিসির আওতায় সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের সংস্কারকাজ শেষ হবে এ মাসেই। পাশাপাশি মহাখালী টার্মিনালের সংস্কার করবে ডিএনসিসি। আর ঘাটারচরে বাস টার্মিনাল করতে বিশদ নকশার জন্য এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) আহ্বান করা হয়। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রশাসনিক অনুমোদন মিলেছে।
ডিটিসিএ জানায়, বাস রুট রেশনালাইজেশন সম্পন্ন হলে আন্তঃজেলা বাস আর ঢাকায় প্রবেশ করবে না। সে জন্য ট্রান্সফার স্টেশনের ব্যবস্থা রাখা হবে। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণের জন্য স্টাডি করে ১০টি স্থান নির্ধারণ করেছে ডিটিসিএ। (১) কাঁচপুর-২ (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দক্ষিণে), (২) কাঁচপুর-১ (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উত্তরে, (৩) গ্রাম ভাটুলিয়া (এমআরটি-৬ এর ডিপোর সাথে), (৪) ভুলতা (ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সন্নিকটে), (৫) হেমায়েতপুর (ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পার্শ্বে), (৬) বাইপাইল (নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের পার্শ্বে), (৭) গাজীপুর (ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পার্শ্বে), (৮) ঝিলমিল, বাঘাইর (ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দক্ষিণে), (৯) আটিবাজার (ইনার রিং রোডের পশ্চিম পার্শ্বে) ও (১০) কাঞ্চন (ঢাকা বাইপাসের দক্ষিণে)।

Leave a Reply