একতা ডেস্কঃ অন্তরবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রত্যেকটি খাত ঢেলে সাজানোর অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রশাসনের শীর্ষপদেও (সচিব) রদবদল আনা হয়েছে। বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সদ্য শূন্য হওয়া জননিরাপত্তা বিভাগ, সুরক্ষা সেবা বিভাগসহ সাতটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সচিবের পদ শূন্য। আগামী বিশ দিনের মধ্যে বিদায় নেবেন প্রশাসনের আরও পাঁচ সচিব। এখন চলছে আওয়ামী সরকারের পদায়নে এখনও যারা বহাল আছেন, তাদের বিদায়ের ক্ষণগণনা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে চাকরিকাল শেষ হবে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্লাহ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহা, সেলিম উদ্দিন, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম শামিমুল হক ছিদ্দিকী, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দিন এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ।
প্রশাসনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বর্তমান সরকারের আমলে ৮০ জন সচিব হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। এই ৮০ জনের মধ্যে ৩৮ জন বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া। বাকি ৪৪ জনের মধ্যে ১৩ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আবার শূন্যপদে নতুন সচিব নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোখলেস উর রহমান আমাদের সময়কে বলেন, প্রশাসনে সচিব পদে পদোন্নতি ও পদায়ন চলমান রয়েছে। এবার আমরা বি প্র্যাকটিক্যাল। মানুষের কাছে গিয়ে যতটুকু গ্রহণযোগ্য, সেটা দেওয়ার চেষ্টা করব। তবে রাজনৈতিক সরকারের মতো প্রশাসনের শীর্ষপদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের বিরোধিতা করছেন পদোন্নতিপ্রত্যাশী প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাদের যুক্তি, পদোন্নতি দিয়ে সচিব পদে পদায়ন হলে প্রশাসনে আরও গতি বাড়বে। এমনকি যারা বিগত সরকারের লেজুড়ভিত্তি করেছেন, তাদের বাইরেও অনেক কর্মকর্তা প্রশাসনে আছেন। তাদের দিয়ে শূন্যপদ পূরণ করা যেতে পারে বলেও মত দিয়েছেন কোনো কোনো কর্মকর্তা।
এদিকে আওয়ামী সরকারের নিয়োগ পাওয়া শীর্ষ কর্মকর্তাদের এখানও প্রশাসনে বহালতবিয়তে থাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। সংগঠনটির নেতাদের প্রশ্ন, আওয়ামী আমলে সুবিধাভোগীরা কীভাবে এখনও প্রশাসনে বহাল? তাদের দাবি, গত ১৬ বছর বঞ্চিত তাদের করে রাখা হয়েছে। কারও কারও পদোন্নতি দেওয়া হলেও ডাম্পিং পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব বৈষম্য দূর করার জোর দাবি জানান তারা।

Leave a Reply