একতা ডেস্কঃ ভারত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ইতিমধ্যেই সরবরাহ শৃঙ্খলে ফাটল ধরাতে শুরু করেছে। রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত এখন প্রশ্নের সম্মুখিন এই নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় বাজারে কতটা প্রভাব ফেলবে?
২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি করে ভারত দ্রুত শীর্ষে উঠে আসে। সস্তা তেলের সুযোগ নিতে ভারত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাশিয়া থেকে ২৫ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি নতুন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রুশ তেলের কার্যক্রম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে রাশিয়ার বড় তেল কোম্পানি গ্যাসপ্রম এবং সারগুত নেফতে গ্যাস তেলবাহী জাহাজ এবং সংশ্লিষ্ট পরিসেবার উপর বিধিনিষেধ।
ভারতের ইন্ডিয়ান অয়েলের চেয়ারম্যান অরবিন্দর সিং সাহানির মতে রাশিয়ার তেলের উপর নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতীয় বাজারে সরাসরি কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি দাবি করেন, যদি রাশিয়ার তেল। সরবরাহ কমে যায় ভারত বিকল্প উৎস থেকে চাহিদা পূরণে সক্ষম। ইতিমধ্যেই ওপেকভুক্ত দেশগুলো এবং মধ্যপ্রচ্যের দেশগুলো থেকে তেল আমদানি বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে।
রাশিয়ার তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেকটাই কম হওয়ায় ভারত গত দুই বছরে ভারত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে। অপরিশোধিত তেল কিনে পরিশোধিত করে ইউরোপ এবং আমেরিকার বাজারে সরবরাহ করাও ভারতের জন্য বড় অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে এনেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার ফলে এই সরবরাহ শৃঙ্খল বাধাগ্রস্থ হতে পারে।
রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের উপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ভারতকে রাশিয়ার তেল আমদানি কমানোর আহ্বান জানালেও ভারত নিজের অবস্থানে অনঢ় থেকেছে। এই অবস্থানে অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক দুই ক্ষেত্রেই ভারতের জন্য একটি কৌশলগত জয়।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ফলে রাশিয়ার তেলের সরবরাহে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে তবে ভারতের বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সীমিত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত তার বিকল্প উৎস এবং কৌশলগত অবস্থানের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে প্রস্তুত। তবে তেলের বৈশ্বিক মূল্য বৃদ্ধি হলে তা ভারতীয় অর্থনীতির উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Reply