আজ ১০ ডিসেম্বর, বিশ্ব মানবাধিকার দিবস। নির্যাতিত নিষ্পেষিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, প্রতিবাদী হয়ে ওঠার দীপ্ত শপথের দিন আজ। তাছাড়া যথাযথ সমীহ করে চলতে শেখার দিনও আজ। যাতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত না হয়। কিন্তু বড় বিষ্ময়ের কথা হলো আজই পত্রিকার খবরে দেখছি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী খবর পেয়েছেন বাংলাদেশ সরকার তার রাজ্যটি দখল করে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। রাজ্যের বিজেপি নেতা গোপনে খবর পেয়েছেন তিন লাখ হাতে ঠেলা রিকশা ঢাকা থেকে রওয়ানা দিয়েছে কলকাতা দখল করতে। এ খবর তারা কোথা থেকে পেয়েছেন তা কেবল তাদেরই জানার কথা। গোপন খবর বলে কথা।
হ্যাঁ, মানছি সব দেশের মধ্যেই ভালমন্দ সব ধরণের মানুষ থাকে। কিছু ফালতু লোকও থাকে। আর ফালতু লোকের কথায় কান দেয় ফালতু লোকেরাই। এটা সবারই জানার কথা। সেই দৃষ্টিতেই বলছি কোন কোন ফালতু লোকে সামাজিক মাধ্যমে এসব কথা বলতেই পারে। বাংলা বিহার উড়িষ্যার কথা আসতেই পারে সেভাবে। রাষ্ট্র প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে কি এমন কথা বলা হয়েছে? হ্যাঁ, যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা কেউ এমন কথা বলতেন, তাহলে মমতা ব্যানার্জি এমন কথা বলতেও পারতেন, দরকারে সেনা মোতায়েনও করতেই পারতেন।
তবে সেনা মোতায়েনের কোন কথা তিনি বলেননি। কারণ সে ক্ষমতা তার হাতে নেই। যেমন বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী পাঠানোর জন্য তার দেশের প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছিলেন। সেটিও যে সম্ভব না কখনোই, এ খবরও তিনি জানতেন না। এখন আবার শুরু করেছেন বাংলাদেশের মানুষ নিয়ে টালবাহানা। তিনি বলে ফেললেন ‘আমরা কি ললিপপ খাব?’ উনি কী খাবেন সেটি ওনার ব্যাপার। তবে ওনার আচরণটা সেই ললিপপ খাওয়া বাচ্চাদের মতোই।
আবার বিজেপির রাজ্যনেতা শুভেন্দু অধিকারী বললেন ওনার কাছে খবর আছে বাংলাদেশের হাতে ঠেলা রিকশাওয়ালারাই কলকাতা দখল করে নিবেন। ওনার ধারণা বাংলাদেশের মানুষ হাতে ঠেলা রিকশা চালায়। উনি কি জানে, সারাবাংলাদেশ ঘুরে একটিও হাতে ঠেলা রিকশা পাবেন না উনি? এদেশের মানুষ সে স্তর পার হয়ে এসেছে অনেক আগে। তবে আমার বিশ্বাস কলকাতায় হাতে ঠেলা রিকশা যথেষ্ট রয়েছে এখনো। উনি বাংলাদেশের মানুষকে ছোট করার জন্যই এভাবে মন্তব্য করে বলেছেন বাংলাদেশের হাতে ঠেলা রিকশাওয়ালারা কলকাতা দখল করে নেবেন। এটা উনি বিশ্বাসও করে নিয়েছেন। তাই ফলাও করে প্রচার করলেন। হয়তো ওনার রাজ্যবাসীকে সতর্ক করার জন্যই এ বার্তা দিয়েছেন উনি। কেন এসব উস্কানি দিচ্ছেন ওনারা তা ওনারাও ভাল জানেন কি না সন্দেহ আছে।
রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্য ভারত প্রশাসনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আলোচনাও ফলপ্রসু বলে মিডিয়ার কল্যাণে বিশ্ববাসী জেনে নিল। ভারত বাংলাদেশীদের জন্য ভিসা বন্ধ করে দিয়েছিল। তাতে কার লাভ বা ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে আলোচনার অবকাশ নেই। যা হোক ভারত প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ভিসা ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে এবং আগের চেয়ে বেশি সুবিধা প্রদানের কথাও বলা হয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষই আশাবাদী। তবে পশ্চিমবঙ্গীয় রাজ্যপক্ষ থেকে যেভাবে ভেংচি কাটা হচ্ছে, উত্তপ্ত ছড়ানো হচ্ছে, তাতে তা কখনো দুই দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করতে পারে না।
মোদ্দা কথা হলো রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখাতে জানতে হবে। নিজের ব্যক্তিত্ব নিজেউ রক্ষা করে চলতে হয়। তা না হলে ভারসাম্য থাকে না। আর ব্যক্তিত্বহীন ব্যক্তি কখনো বড় হতে পারে না। যেহেতু এটা পরস্পর দুই দেশের ব্যাপার। সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়। আর এ বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতি দিয়ে সমাধান হয় না। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমাধান করতে হয়। রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের কর্মসুচী যেমন তাদের স্থানীয়ভাবে আই ওয়াশ ছাড়া আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানের কোন কাজে আসে না। তেমনি ভারতের উল্লেখিত দুই নেতা নেত্রী যা বলছেন আর করছেন তা রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিসুলভ নয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখানো উচিৎ।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply