নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মাগুরা সদর উপজেলার বড়শলই গ্রামে বড়শলই পঞ্চপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি, সরকারি খাস সম্পত্তি ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে “বিএম আমিরুল” ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও অবৈধ দখলকৃত সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
১. বিদ্যালয়ের জমি দখলের অভিযোগ-
স্থানীয়দের দাবি!
বড়শলই পঞ্চপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে মোট প্রায় এক একর (১০০ শতক) জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৯৬ শতক জমির আরএস রেকর্ড চূড়ান্তভাবে প্রস্তুত ও প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডীয় ৯৬ শতক জমির দক্ষিণ-পশ্চিম পাশের প্রায় ২৬ শতক নিচু ও ডুবা জমি দীর্ঘদিন ধরে “বিএম আমিরুল”গং দখল করে রেখেছে।এদিকে, বিদ্যালয়ের জমি নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই ‘প্রধান শিক্ষকের’ সঙ্গে যোগসাজশ করে বিতর্কিত “বিএম আমিরুল” অতি গোপনে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।স্থানীয় বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, “বিএম আমিরুলের” অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় অভিভাবক ও পঞ্চপল্লীর গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ কেউই আগে থেকে জানতেন না। বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে বলেও জানা গেছে।এ ঘটনায় বিএম আমিরুলের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় এবং কোন বিবেচনায় তাকে বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি করা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২. সরকারি খাস জমি দখল ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা দখলের অভিযোগ-
বিদ্যালয়ের জমি দখলের বাইরেও “বিএম আমিরুলের” বিরুদ্ধে সরকারি খাস জমি দখল করে পুকুর খনন, স্থানীয়দের চলাচলের রাস্তা দখলএবং বুলডোজার দিয়ে মাটি কেটে সরকারি জমির প্রকৃতি ও সীমানা পরিবর্তনের অভিযোগ রয়েছে।এসব ঘটনায় স্থানীয় ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানা গেছে।ভুক্তভোগীরা এ-সংক্রান্তে দেং-৩৯২/২৫ নং সিভিল মোকদ্দমা বিজ্ঞ আদালতে দায়ের করেছে।

৩. বিচারাধীন জমি ক্রয় ও দখল নিয়ে দলিল বাতিল সংক্রান্ত আদালতের আদেশ-
স্থানীয়দের অভিযোগ, আব্দুল জলিল মোল্লা বনাম শিশির কুমার বিশ্বাস গংয়ের মধ্যে বিজ্ঞ সিভিল আদালতে দেং-৩৯৯/২০ নম্বর দেওয়ানি মামলা চলমান থাকা অবস্থায় “বিএম আমিরুল” গত ১৯ জুন ২০২৩ তারিখে ৪৮৩৮ নম্বর দলিলের মাধ্যমে শিশির কুমার বিশ্বাস গংয়ের কাছ থেকে প্রায় ২ একর ৫৫ শতক জমি বে-আইনিভাবে রেজিস্ট্রি করে নেয়। ভুক্তভোগী পক্ষ, বিচারাধীন ওই সম্পত্তির দলিল সম্পাদনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরবর্তীতে বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে সিভিল রিভিশন-০২/২৪ নং মামলা দায়ের করেন।
বিজ্ঞ আদালত গত ১৯ জুন ২০২৩ তারিখে “বিএম আমামিরুলের” অবৈধ উপায়ে রেজিস্ট্রিকৃত ৪৮৩৮ নম্বর দলিলের কার্যকারিতা স্থগিত-সংক্রান্ত আদেশ প্রদান করেন।
এ ছাড়া, বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা ও Absolute এর আদেশ থাকা সত্ত্বেও “বিএম আমিরুল” ভাড়াটে লোকজন দিয়ে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে রেখেছে মর্মে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

৪. এ সংক্রান্ত প্রায় এক ডজন মামলার তথ্য তুলে ধরা হলো-
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএম আমিরুলের বিরুদ্ধে সরকারি ও ব্যক্তি মালিকানা জমি দখল ও সম্পত্তিসংক্রান্ত একাধিক দেওয়ানি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দেং-৩৯২/২৫, দেং-৩৯৯/২০, সিভিল রিভিশন-০২/২৪-(দলিল বাতিল), দেং-৬০২/২৪, দেং-৮৭০/২৪, দেং-৬৭০/২৪, মিস-৩৮/২৫ (নিষেধাজ্ঞ ভঙ্গ), মিস-৩৩/২৫ (নিষেধাজ্ঞ ভঙ্গ), এলএসটি-১২০১/১৭, দেং-৫৯২/২০ এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গসহ বিজ্ঞ আদালত কর্তৃক নিযুক্ত রিসিভারকে হুমকি প্রদানের গুরুতর আদালত অবমাননার অভিযোগও রয়েছে।
৫. স্থানীয়দের আরও গুরুতর অভিযোগ বিএম আমিরুলের বিরুদ্ধে-
তাঁর বৃদ্ধ চাচা মো: দুলাল বিশ্বাসের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চাচা তাঁর বিরুদ্ধে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ১২০১/১৭ নম্বর মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।
৬. বিদ্যালয়ের উন্নয়নকাজের আগে জমি উদ্ধারের দাবি-
স্থানীয়দের দাবি, বড়শলই পঞ্চপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য সরকার থেকে প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ পরিমাপ ও সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি।
অবস্থায় উন্নয়নকাজ শুরুর আগে বিদ্যালয়ের নামে থাকা সম্পূর্ণ জমি দখলমুক্ত করে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে সরেজমিনে জমি নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থার গ্রহণের দাবি-
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জমি, সরকারি খাস সম্পত্তি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি দখলসংক্রান্ত “বিএম আমিরুল” ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরী।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমি দখলমুক্ত করা, আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে অবৈধ দখলীকৃত সম্পত্তির প্রকৃত ভুক্তভোগীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, ভূমি বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা র অবস্থা যাচাই, বিদ্যালয়ের জমির সীমানা নির্ধারণ এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
Leave a Reply