একতা ডেস্কঃ দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পাঁচ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে, তাই এর টেকসই সমাধানও মিয়ানমারেই করতে হবে।
বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড ইজেন্টে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রাখাইন রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, রোহিঙ্গারা এখনো নির্বিচারে আটক, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা, জোরপূর্বক শ্রম ও নিরাপত্তাহীনতাসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মি’র বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কারণে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি। শুধু সহমর্মিতা প্রকাশ না করে সংকটের মূল কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় এসেছে।
তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতির জায়গা থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত মানুষের ব্যবস্থাপনার পরিবর্তে তাদের বাস্তুচ্যুতির অবসানের দিকে এগোতে হবে। মানবিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা রাজনৈতিক নিষ্ক্রিয়তার অজুহাত হতে পারে না। অনির্দিষ্টকাল বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের দায়জার বহন করবে, এমন প্রত্যাশাও করা যায় না।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চায় না রোহিঙ্গারা চিরকাল বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকুক। তারা যেন নিরাপদে, স্বেচ্ছার ও মর্যাদার সঙ্গে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে নিয়ানমারে নিজ ভূমিতে ফিরে যেতে পারে, বাংলাদেশ সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে-
প্রথমত, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীজনদের রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, স্বেচ্ছাদুলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য একটি স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহায়তা করার পাশাপাশি তাদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের বেসামরিক জনগণের ওপর সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করতে হবে। নিজজুনিতে রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের নিরাপদে ফিরে যাওয়ার আস্থা তৈরি করতে হবে।
তৃতীয়ত, রোহিঙ্গাদের জন্য পর্যাপ্ত ও পূর্বানুমের মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্যও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণের উন্নয়ন যেন রোহিঙ্গাদের প্রতি উদার আতিথেয়তার কারণে বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
চতুর্থত, টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় গাম্বিয়ার নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক বিচার ও তদন্ত ব্যবস্থার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে গুরুতর অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলেন তিনি।
পঞ্চমত, মাদকডিত্তিক অর্থনীতি, মানবপাচার, ডিজিটাল প্রতারণা, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসাসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে হবে।
Leave a Reply