সাইফুল ইসলাম, মাগুরা প্রতিনিধিঃ শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। বাতাসে উৎসবের আগমনী বার্তা। আর সেই বার্তাকে পূর্ণতা দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা তৈরির কারিগর ও ভাস্কররা। শারদীয় দুর্গাপূজা যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তাঁদের কর্মচাঞ্চল্য। দিনের আলো ফুরিয়ে গেলে পূজা মন্ডপগুলোতে থেমে নেই প্রতিমা তৈরির কাজ।
মাগুরার শালিখা উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্ডপ ঘুরে দেখা যায়, বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে প্রতিমার প্রাথমিক কাঠামো। কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেয়ার কাজ। আবার কোথাও শিল্পীর নিপুণ আঙুলের স্পর্শে ধীরে ধীরে ফুটে উঠতে থাকে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। এ সকল কাঁচা মাটির নির্জীব কাঠামো একসময় রূপ নেয় জীবন্ত শিল্পকর্মের।
প্রতিমা তৈরির প্রতিটি ধাপেই রয়েছে ভাস্করদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার ছাপ। প্রথমে বাঁশ ও খড় দিয়ে কাঠামো তৈরি করা হয়। এরপর প্রস্তুত মাটি দিয়ে ধাপে ধাপে শরীরের অবয়ব গড়ে তোলা হয়। মাটি শুকিয়ে গেলে চলে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও রঙের কাজ। সবশেষে শাড়ি অলংকার, চুল ও নানা সাজসজ্জায় পূর্ণতা পায় প্রতিমার সৌন্দর্য।
উপজেলার চুকিনগর বারাঙ্গা খাল পূজা মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে আসা ভাস্কর নিরঞ্জন সরকারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, পূজার সময় ঘনিয়ে এলে কাজের চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পূজা মন্ডপ গুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করতে হয়। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের ব্যস্ততা। অনেক সময় পরিবারের সদস্যরাও কাজে হাত লাগান।
এই ব্যস্ততার মাঝেও ভাস্করদের চোখেমুখে থাকে এক ধরনের তৃপ্তি। তারা জানান, শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্যই নয়, দেবী দুর্গার প্রতিমা যখন পূজা মন্ডপে স্থান পায়, তখন মাটির সঙ্গে মিশে থাকা তাদের শ্রম, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা যেন নতুন অর্থ খুঁজে পায়।
Leave a Reply