বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তোপের মুখে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার বাংলাদেশে অগণিত হামলা ভাংচুর হয়েছে। খুন ধর্ষণও হয়েছে। সংখ্যালঘুদের ওপরও ঘটনা ঘটেছে উল্লেখযোগ্য হারে। আসলে কারো ওপরই এমন কথা ছিল না। কারণ আমরা বৈষম্যকে দূর করার প্রত্যয় নিয়ে আন্দোলন করেছি বা তাতে সমর্থন করেছি। তারপরও অনাকাঙ্খিতভাবে যা ঘটে গেছে তা অবাঞ্ছনীয়, নিন্দা ও ধিক্বার পাওয়ার যোগ্য। তবে সবধরণের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য দেশে আইন রয়েছে। মোদ্দা কথা হলো আইনও এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়নি আজও। এরই মধ্যে শুরু হয়ে গেল সংখ্যালঘু অধিকার আন্দোলন। ৮ দফা দাবি নিয়ে সারাদেশে সভা সমাবেশ করছে। তার মধ্যে আবার দেশের জাতীয় পতাকা অবমাননার ঘটালো তারা। আন্তর্জাতিক সনাতনী কৃষ্ণভাবনা সংঘ ইস্কনের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় চলছিল এসব সভা সমাবেশ। নেতৃত্বে ছিলেন ইস্কন প্রতিনিধি চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী। রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলায় আটক হলেন তিনি। এ ব্যাপারে আন্দোলনকালে চট্টগ্রামে আদালত প্রাঙ্গনে খুন হলেন আইনজীবি। তারপরও থেমে থাকেনি সংখ্যালঘু আন্দোলন। চিন্ময় গোঁসাইকে মুক্ত করার জোর দাবি নিয়ে চলছিল নানা কর্মসুচী। সাধারণ সনাতনীদের মধ্যেও অগাধ বিশ্বাস ছিল ভারত কিছু একটা করে দিবে। এগুলো অবশ্য অরাজনৈতিক ভাবনা। এরই মধ্যে দেখা গেল ইস্কন চিন্ময় গোঁসাইকে বহিষ্কার ঘোষণা করলো। তারপরও ইস্কন ভক্তরা পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার চেষ্টায় ব্যর্থ হলেন। ভারতের কেন্দ্রীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু বলছে, বাংলাদশে থেকে হিন্দুরা পালিয়ে ভারতে আসছে, এ তথ্য ভুল। গণশক্তি পত্রিকায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদর মোদী বলছেন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা কেমন থাকবে তা ঠিক করবে সেদেশের সরকার। আবার মার্কিন সংবাদ মাধ্যম বলছে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা এই সময়ে সবচেয়ে নিরাপদে আছে।
কথা তো সত্যি। বিগত আওয়ামীলীগ শাসিত ১৫ বছরে এদেশে যতবার যে পরিমাণ সংখ্যালঘু নির্যাতন হয়েছে তার মধ্যে কোন একটি ঘটনার বিচার করেছে শেখ হাসিনার সরকার? মিথ্যা ধর্ম অবমাননার ধোঁয়া তুলে সংখ্যালঘুদের ওপর যে নির্মম অত্যাচার চালিয়েছে পরবর্তীতে ঠিকই ধরা পড়েছে আসল আসামী হিন্দু নয়, মুসলমান। তখন আরো তাকে বাঁচানোর জন্য পাগল আখ্যা দিয়েছে শেখ হাসিনার সরকার। সোনার বাংলায় পাগলের চাষে বাম্পর ফলন দেখিয়ে গেলেন শেখ হাসিনা। তবে চলতি এই সংখ্যালঘু গ্যাড়াকলে আওয়ামীলীগের কিছু মদদ আছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। সংখ্যালঘুদের এখনো উচিৎ সম্পূর্ণ অসাম্প্রদায়িকভাবে কোন দলের কথা না শুনে সংখ্যালঘু ব্যানারেই সীমাবদ্ধ থাকা।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply