একতা ডেস্কঃ অন্তর্বর্তী সরকার আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ, নির্বিঘ্ন করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠাগুলো এ ব্যাপারে নিয়মিত কাজ করছে। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর নতুন এই সরকারের জন্য ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা এক রকম চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে। ঈদযাত্রা উপলক্ষে নতুন সেতু ও সড়ক খুলে দিয়েছে সরকার। যানজট নিরসন, যাত্রী নিরাপত্তা, টিকিটের অতিরিক্ত দাম ও কালোবাজারি বন্ধসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। এবারের ঈদযাত্রায় অন্যবারের মতো যেন বিড়ম্বনা তৈরি না হয়, সে জন্য সারা দেশে একযোগে কাজ করবে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ। তিন হাজার ৯৯১ কিলোমিটার মহাসড়কে ১০১৮টি চেকপোস্ট ও টহলে থাকবেন হাইওয়ে পুলিশ ও বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের সদস্যরা।
সরকারকে সহযোগিতার অংশ হিসেবে যাত্রীদের সেবা নির্বিঘ্ন করতে বেসরকারি অপারেটররা তাদের বহরে নতুন বাস সংযুক্ত করেছে। নির্ধারিত দামের অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি, যাত্রী হয়রানি ও বাসের শিডিউল বিপর্যয় রোধকল্পে ব্যবস্থা নিতে পুলিশের পাশাপাশি মাঠে থাকবে বাস মালিক সমিতি। এদিকে কোনো কারণে বাসের শিডিউল বিপর্যয় হলে যাত্রীদের তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে হেল্প সেন্টার চালু করেছে দেশের টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকম। বাংলাদেশে এসি ও নন এসি বাসের বাইরেও স্লিপার ও বিজনেস ক্লাস স্যুট বাস জনপ্রিয় হচ্ছে। এসব বাস আগে শুধু ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে সেবা দিয়ে থাকলেও এবার দেশের অন্যান্য রুটেও সেবা দেবে।
দেশের দূরপাল্লার গণপরিবহন খাত জাপানিজ ব্র্যান্ড হিনোর ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল ছিল। বর্তমানে দেশে তাদের একমাত্র পরিবেশক নতুন কোনো মডেল বাজারে আনতে না পারায় বাস মালিকরা মার্সিডিজ বেঞ্জের ওএফ ১৬২৩ মডেলকে হিনো বাসের সর্বোত্তম বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। এতে করে দেশের নন-এসি বাসের যাত্রীরা দূরপাল্লার যাত্রায় এই ব্র্যান্ডের বাসকে বেছে নিচ্ছেন। দেশের সর্ববৃহৎ বাস কোম্পানি হানিফ এন্টারপ্রাইজও তাদের বহরে এই বাস যুক্ত করেছে এবার। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন সড়কে সেবাপ্রদানকারী বাসগুলোও তাদেও বহরে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করছে। হানিফ পরিবহনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সিরাজুল ইসলাম রিকু বাংলাদেশ বলেছেন, আমরা আগের রুটগুলোতেই এবার সার্ভিস দিচ্ছি।
বাসের টিকিট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার অপারেটর ও অনলাইনে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকমের টিকিটস ডিরেক্টর বলেন, আমরা এবার ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। আমাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যাত্রীরা ১২০টি বাস অপারেটরের টিকিট বুকিং দিতে পারবেন। এ ছাড়া আমাদের সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনেক প্রতিষ্ঠান কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছে। সব মিলিয়ে আমরা এই ঈদে ৩০ লাখ টিকিট বিক্রির প্রত্যাশা করছি। আমাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে কোনো অপারেটর টিকিট বিক্রি করতে পারছে না।
বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিচালক মোঃ দেলোয়ার মিঞা বলেছেন, এবারের ঈদে আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাব। একইসঙ্গে যানজট নিরসনে আমরা কাজ করছি। যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা যেন না থাকে সে জন্য আমরা সারা দেশের মহাসড়কে টহল, চেকপোস্টসহ নিরাপত্তা জোরদার করছি। এবার সুন্দর ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
Leave a Reply