একতা ডেস্কঃ কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা রোগে প্রতি ১৫ সেকেন্ডে একজন শ্রমিক মারা যান সারাবিশ্বে। শ্রমিকদের এমন মৃত্যুর কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে অর্থনীতি। বছরে জিডিপি হারাতে হচ্ছে ৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২৮ এপ্রিল, সোমবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি কনফারেন্সে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সহযোগিতায় এ কনফারেন্স আয়োজন করে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর।
প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান। এতে সভাপতিত্ব করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক ওমর মোঃ ইমরুল মহসিন। কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মোঃ মতিউর রহমান ‘পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি: জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিত’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ প্রবন্ধে আইএলওর ২০১৯ সালের তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্বজুড়ে বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা রোগে ২৭ লাখ ৮০ হাজার শ্রমিকদের মৃত্যু হয়। আর প্রতি ১৫ সেকেন্ডে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা বা রোগে মারা যান একজন শ্রমিক। বছরে কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় আহত হন ৩৭ কোটি ৪০ লাখ শ্রমিক। বৈশ্বিক জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ৪ শতাংশ।
শ্রম উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শ্রম মন্ত্রণালয় একা কাজ করতে পারে না। যেমন ধরেন- শিপবিল্ডিং, এটি শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতায় না, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায়। দুর্ভাগ্যজনক কোনো ইনফরমাল সেক্টর শ্রম মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেই। কোনো কনস্ট্রাকশন ফার্ম রেজিস্টার না। যদি কোনো কনস্ট্রাকশন ফার্ম শ্রম আইনের আওতায় নিবন্ধিত না হয়, তাহলে সেই ফার্ম সরকারি কোনো দরপত্রে অংশ নিতে পারবে না।
বেশ কয়েকটি কারখানা শ্রমিকদের বেতন দিতে পারছে না উল্লেখ করে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম সচিব এ এইচ এম শফিকুজ্জামান বলেন, আজ একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতনের ২০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তারা টাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি। অন্য একটি কারখানার আগামী ৭ মে শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের টাকা দেওয়ার কথা, তারাও এখনো পর্যন্ত টাকার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এমন একটা প্রেক্ষাপটে আমরা ওএসএইচ (পেশাগত সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য) ডে পালন করছি। যেখানে শ্রমিক তার তিন বছর, দুই বছর, তিন মাস, ৮ মাসের বেতনই পায়নি সেখানে আমার কাছে মনে হয় এই জায়গাগুলোতে অনেক গ্যাপ রয়ে গেছে।
শ্রম সচিব আরও বলেন, ফার্মাসিউটিক্যালস বা একটি গ্রিন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকরা সুন্দর পরিবেশে কাজ করছে। আর নির্মাণশ্রমিকরা বা শিপবিল্ডিংয়ে যারা আছে তাদের মধ্যে গ্যাপটা কীভাবে মিনিমাইজ করা যায়, সেটাই টার্গেট হওয়া উচিত।
বাংলাদেশে পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেইফটি: অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক আর একটি প্রেজেন্টেশন দেন সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেইনিং বিভাগের পরিচালক প্রফেসর ড. হাসনাত এম আলমগীর।
Leave a Reply