কবি পরিচিতিঃ একজন নিভৃতচারী কবি শাজনাজ মায়া। রাজধানী ঢাকার খিলগাঁওয়ে অবস্থিত স্টার টিচিং পয়েন্ট কোচিং সেন্টারে বাংলা শিক্ষিকা হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১৫ বছর ধরে। শিক্ষকতার পাশাপাশি লেখার প্রতি তার খুবই আগ্রহ পড়াশোনার কাল থেকেই। মনের টানে লেখেন। প্রকাশ করতেই হবে এমন তীব্র আকাঙ্খা তার মধ্যে কোনদিনই দেখিনি। তবে মাঝে মধ্যে লিটল ম্যাগে তার কিছু কবিতা প্রকাশিত হতে দেখা যায়। প্রচার বিমুখ কবি এই শাহনাজ মায়ার একগুচ্ছ কবিতা পাঠকের সামনে তুলে ধরা হলো।
১ নং কবিতা
বিবর্তনের শেষ পর্ব
আমি আমার পছন্দের জিনিসগুলো বিক্রি হতে দেখেছি।
তখন আমার টাকা বা বয়স কোনোটাই ছিলনা
যখন আমার কাছে টাকা হবে আমার বয়স হবে।
সেই জিনিসগুলো আর হবেনা।
সময়ের সাথে সাথে ইচ্ছেও বদলে যায়
হয় ভালোলাগার পরিবর্তন।
সেই বয়সের ভালোলাগা আর এই বয়সের ভালোলাগার বিস্তর ফারাক
আমার ইচ্ছেগুলো নিয়ে ভাবি।
ভাবতে ভাবতে দিশেহারা হই
আমার আর ভাবনার শেষ হয় না শেষ হয়ে যাই আমি।
কখন যে আমার ভেতর থেকে শূণ্য হয়ে যায় জানি না।
শূণ্যতা আঁকড়ে ধরে আমাকে
আষ্টে পৃষ্ঠে ধরে রাখে আমাকে।
নিঃশ্বাস নিতে পারি না
বুকের ভেতর জমানো কষ্টগুলো
গিলে খায় আমাকে
কষ্টে নীল হয়ে যাই
কপালে কষ্টের নীল রেখাগুলো ভেসে ওঠে।
২ নং কবিতা
ব্যর্থ প্রতীক্ষা
আমি আজও তোমার একটি চিঠির প্রতিক্ষায় থাকি
চিঠি আসবে না তুমি আসবে না জেনেও প্রতিক্ষায় থাকি
এই প্রতিক্ষায় থাকা কতটা কষ্টের তা উভয়েই জানি
তবুও না জানার ভান করি করতেই থাকি।
তোমার চিঠি আমার বেঁচে থাকার প্রেরণা ছিল ছিল বলছি! এই কারণে
তুমি আর কোনদিনই চিঠি লিখবে না আমাকে।
তোমার চিঠি পড়লে
আগে যেমন আমার ভেতরটা ভেঙেচুরে যেত
এখনো ভালোলাগায় ভেঙেচুরে যাবে
অপেক্ষায় থাকি আসবে তো চিঠি!
আমার মতো পোস্ট অফিসের পোস্ট বক্সটাও
তোমার চিঠির অপেক্ষায় থাকে চিঠি
আসবে না জেনেও থাকে।
লেটার বক্সে মরচে ধরেছে
আজকাল অনেককিছুই মনে রাখতে পারি না ঠিকমতো
হয়তো আর পারবোও না
তাও সেই চিঠির প্রতিক্ষায় থাকবো আমরণ।
৩ নং কবিতা
দুঃখের ফেরিওয়ালা
সবার যত দুঃখ আছে আমায় দেবে
আমি দুঃখ কিনি দুঃখ ফেরি করি
লাল নীল’ হলুদ সবুজ হাজার রকমের দুঃখ।
কষ্ট নেবে কষ্ট-দুঃখ নেবে দুঃখ
এইযে বাবু দুঃখ আছে আমি দুঃখ কিনি
অনেক দাম পাবেন।
গড়পড়তা ফেরিওলার চাইতে বেশি
আমি একটু বেশিই দিবো
যদি হয় বিক্রি করতে পারো।
ঠকবেন না বাবু – ভালো দাম দিবো
এই দামে সুখ কিনতে পারবেন তো!
আজকাল দুঃখের দাম অনেক বেশি
চড়া দামে বিক্রি হয় সুখ হয় না
আমি রোজ দুঃখ ফেরি করি।
৪ নং কবিতা
বয়সের বলিরেখা
অনেকেই বলে আমার বয়স হয়েছে
হ্যাঁ আমি জানি আমার বয়স হয়েছে
মুখে বলিরেখা পড়েছে কিছু চুল পেকেছে
চোখের দৃষ্টি শক্তিও ঝাপসা হয়ে এসেছে কিছুটা।
হয়তো আর কয়েকটা দিন বেঁচে আছি
সময়ের প্রয়োজনে বেঁচে থাকি
মনের মধ্যে ঘুনপোকা বাসা বেঁধেছে
স্মৃতি শক্তি কমে এসেছে অনেকটা
তাও বেচে থাকার চেষ্টা করি।
আজকাল ভালো লাগাগুলো আর তেমন টানে না
ভালোবাসায় মাকড়সার জাল বুনেছে
প্রতিনিয়ত তারা মনে করিয়ে দিচ্ছে আমার বয়স হয়েছে।
হ্যাঁ জানি আমার বয়স হয়েছে
এখন আর কোনকিছুই আমাকে মুগ্ধ করে না
অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে
চোখের কোনে বলিরেখা পড়েছে।
৫ নং কবিতা
অসভ্য
আমরা মানুষ নামের কলঙ্ক
মানুষ নামের অসভ্য বর্বর জাতি
সভ্যতা এখনো আমাদের স্পর্শ করতে পারেনি।
তোমরা নারী দিবস পালন করো
আগে নারীকে মর্যাদা দিতে শেখো
দিবস তো একটা দিন মাত্র।
নারী অসম্মানিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত
কান পেতে শোনো তার আর্তচিৎকার
পুরুষ বোঝে না বাচ্চাটি এখনো নারী হয়ে ওঠেনি।
পুরুষ তোমার এতই কামুকতা
রাতের অন্ধকারে যাও অন্ধকার পাড়ায়
দেখাও তোমার পুরুষত্তের লড়াই
ছিঃ ছিঃ ধিক্কার জানাই!
Leave a Reply