প্রবাসী লেখক, কলামিস্ট, ব্লগার, রাজনীতিবিদ এভাবে অনেকগুলো বিশেষণ জোড়ানো হয় দেশ ছেড়ে পলাতক পিনাকী ভট্টাচার্যের নামের আগে। তবে তিনি কোন দল বা কোন মতবাদের রাজনীতি করেন তা কি পরিষ্কার করে কেউ বলতে পারেন? আমি জানি। উনি ভণ্ডবাদের রাজনীতি করেন। আজ যে সিপিবির অফিস মুক্তি ভবন দখলের ডাক দিয়েছেন পিনাকী, সেই সিপিবির রাজনীতি পিনাকীও একদিন করতেন। এমন কী আজ যে শাহবাগীদের চিহ্নিত করতে উঠে পড়ে লেগেছেন সেই শাহবাগীদের প্রথম পাঁচজনের মধ্যে একজন ছিলেন পিনাকী। এ তালিকায় তার নামটি তিন নম্বরে আনা যায়। চরম সুবিধাবাদী ইমরান এইচ সরকার তো সেই কালেই হারিয়ে গেছে শাহবাগ থেকে। আর পিনাকী! তার পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালের দুর্নীতিতে ২৮৯ জনের প্রাণ গিয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন থেকে মামলা শুরু হয় তার কোম্পানী এবং তার বিরুদ্ধে। পিনাকী তখন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেন দরবার করে মামলায় ফাঁক ফোকর তৈরি করে নিজে এবং নিজের কোম্পানীকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। এ কারণে শেখ হাসিনার মন যুগিয়ে চলার জন্যই শাহবাগ আন্দোলনে যোগ দেন এবং একজন প্রথম সারির নেতা হয়ে বলিষ্ঠভাবে নেতৃত্ব দেন। আন্দোলনের নেতা কর্মীরা অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তিনি তাদের সেবা যত্নও করেছেন নিজের হাতে। নিজের কোম্পানীর ওষুধ দিয়েও তাদেরকে সুস্থ্য করে তুলেছেন। সবই করেছেন শেখ হাসিনার মন কাড়ার নিমিত্তে। কিন্তু আদালতের গতিবিধি পিনাকীর অনুকূলে নিয়ে যাওয়া গেল না তাও। উনি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন কর্মফল তাকে ভোগ করতেই হবে। তখন সরকারী সহযোগিতায় গোপন দেশ ছেড়ে পালালেন। সেদিন তো শেখ হাসিনা পিনাকীকে আইনের হাতে সোপর্দ করাননি! বরং তাকে বাঁচিয়ে দেয়ার জন্য দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করলেন। প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে দেশ ছেড়ে চলে গেলেন ফ্রান্সে। আজ ফ্রান্সে বসেই শেখ হাসিনার সাথে বিরোধীতা করলেন কোন প্রতিশোধ নিতে তা কারো জানা নেই।
আজ হঠাৎ শাহবাগীদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে দেশে নানা রকম সহিংস ঘটনা ঘটাতে উস্কানী দিয়েই যাচ্ছেন একের পর এক। হ্যাঁ ভণ্ডরা অতি বুদ্ধিমান হয় এটি সবারই জানা। কিন্তু পিনাকী এমন থার্ডক্লাস বুদ্ধি ধারণ করে চলেনে যে তিনি মুক্তিভবনের মতো বলিষ্ঠ স্থাপত্য বা প্রতিষ্ঠানে হামলা করার বুদ্ধি দিলেন তার সাগরেতদের। যদিও তার সাগরেতরা জানে যে এটি কখনো সম্ভব নয়। তাই তারা তার ডাকে সাড়া দিয়েও জুত করে উঠতে পারলো না। আর পারবেও না।
তবে পিনাকী যে প্রায় শ’তিনেক প্রাণনাশের ঘটনা ঘটিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে দিব্যি আরাম করে বাংলাদেশের মানুষের ঘুম হারাম করে দিচ্ছেন এটি তো মেনে নেয়া যায় না। তার থার্ডক্লাস চেতনা দিয়ে কখনো রাষ্ট্রীয় সম্পত্তির ওপর আঘাত হানছেন, কখনো প্রগতিবাদী চেতনার ওপর। দেশে এত ধর্ষণ হচ্ছে, খুন হচ্ছে, ছিনতাই, ডাকাতি হচ্ছে তা নিয়ে পিনাকীর কোন কথাই নেই। তিনি কথা বলছেন যারা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে আছেন তাদের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে কেবল কথাই বলছেন না। ধ্বংসাত্মক ভূমিকায় লেলিয়ে দিচ্ছেন তার অনুসারীদেরকে। এতেও তার ফল ভাল হবে না। তার আশা কোনদিনও পূর্ণ হবে না। কারণ তিনি নিজেই একজন দুর্নীতিবাজ খুনী।
২০০৮ সালে ঘটে যাওয়া পিনাকীর পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালের নকল ওষুধ পান করে যে প্রায় তিনশো লোকের প্রাণনাশের ঘটনা ঘটেছিল সে হিসেব তাকে দিতেই হবে। আজ যতই ছলাকলা দেখান না, যতই প্রভাবশালী জনগোষ্ঠীর সাথে আতাত করে চলেন দেশের মানুষ তার হিসেব নিয়েই ছাড়বে।
এখন কথা হলো, পিনাকী যেমন সিপিবির অফিস মুক্তিভবন দখল করে ছাত্র-জনতার অফিস বানাতে চেয়েছিলেন, তা কোনদিন সম্ভব না তার প্রমাণও হয়ে গেল হাতেনাতে। বরং এ কাজটিই করার সময় এখন এসেছে, পিনাকীর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তার কিছু অংশ পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালের ভেজাল ও নকল ওষুধে যে ২৮৯ জন মারা গিয়েছিল সেই সব ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে বিতরণ করে দিতে হবে।
অবশেষে একটি কথাই বলতে হয় যে, দেশ ও দেশের সমাজ ব্যবস্থাকে উন্নত করে তুলতে হলে আমাদের সামগ্রীক ধারণাকে আগে উন্নত করতে হবে। আর তা হবে সব ধরণের দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া। আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া মানেই পিনাকীর মতো দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তাদের সকল অপকর্মের জন্য অবশ্যই আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাতে হবে। আজ যেমন আমরা শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির আওতায় আনার জন্য দাবি জানাচ্ছি, তেমনি পিনাকীর বিরুদ্ধেও জোর দাবি উঠতে হবে দেশের সকল প্রান্ত থেকে।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply