একতা ডেস্কঃ সম্প্রতি এক টক শোতে রাষ্ট্র নিয়ে ছেলে খেলা কখনোই ভালো ফলাফল বয়ে আনে না। তার মতে, একটি দলের কে নেতা হবে বা কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, তা বাইরের কেউ সংবিধান দিয়ে নির্ধারণ করতে পারে না। এসব সিদ্ধান্ত দলীয় অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি যুক্তরাজ্য, ভারত ও আমেরিকার উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে দলীয় কাঠামোর মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হয়। যেমন, সোনিয়া গান্ধী জনগণের ভেতরে ও দলের মধ্যে অস্বস্তি টের পেয়ে নিজে সরে গিয়ে দলের অন্য একজনকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মনোনীত করেছিলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি অতীতের তুলনায় এখন অনেক বেশি নমনীয় এবং সময়োপযোগী সংস্কারমূলক চিন্তা করছে। বর্তমানে ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাবে দলটি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলেছে। এর মধ্যে রয়েছে- একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদের বেশি প্রধানমন্ত্রী না হওয়া, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা এবং দলীয় নেতা নির্ধারণে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া। এসব প্রস্তাব বিএনপির রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং গণতান্ত্রিক চিন্তারই বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি দাবি করেন।
এই সংস্কার ভাবনার সমালোচনা করেন এনসিপি এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক তাজ রহমান। তারা বলেন, বিএনপি সংবিধান ও রাষ্ট্র কাঠামো নিয়ে অনেক উচ্চপর্যায়ের কথা বললেও, সাধারণ মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ ইস্যু- যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি এবং বেকারত্ব- নিয়ে স্পষ্ট কোনো পরিকল্পনা দিচ্ছে না। তারা প্রশ্ন তোলেন, একটি গণতান্ত্রিক দল হিসেবে বিএনপির উচিত ছিল এসব মৌলিক ইস্যুতে বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরা। কেবল রাষ্ট্র সংস্কারের মতো তাত্ত্বিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে তা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যথেষ্ট হবে না।
Leave a Reply