একতা ডেস্কঃ শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এই আইনজ্ঞ বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার নরওয়ের অসলোতে তাঁর নাম ঘোষণা করে নোবেল কর্তৃপক্ষ।
মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলাটি মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন ও নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ২০১৭ সালে দেশটির সেনাবাহিনীর অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেন। এ ঘটনাকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে ২০১৯ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মামলা করে গাম্বিয়া।
নোবেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিল্লাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামো শক্তিশালী করা এবং ব্যক্তি ও রাষ্ট্রকে আইনের আওতায় জবাবদিহির মুখোমুখি করার ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘদিনের কাজকে পুরস্কারের স্বীকৃতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ছিলেন। এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত পরিবারে জন্ম নেন পিল্লাই। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কর্মীদের আইনি সহায়তা দেন। নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর।
নোবেল কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক আইনের বিকাশে পিল্লাইয়ের ভূমিকা, বিচারিক দক্ষতা, সততা ও সাহসকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের সময়ে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি।
নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। পুরস্কারের সঙ্গে দেওয়া হয় একটি স্বর্ণপদক ও সনদ। ১০ ডিসেম্বর অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হবে।
Leave a Reply