একতা ডেস্কঃ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে চিকিৎসাধীন জোড়া লাগানো জমজ শিশু নুহা ও নাবা ২ বছর ৭ মাস ২০ দিন পর সুস্থ্য হয়ে মা বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরেছে। ২৪ নভেম্বর, রবিবার মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দিয়ে পিতা মাতার কাছে তুলে দেন। ৫টি সফল অপারেশনের পর তাদেরকে আলাদা করা হয়। বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেবিন ব্লকের ৬ তলায় গিয়ে চিকিৎসকরা দুই শিশুর খোঁজ খবর নেয়। এরপরই তাদেরকে আনুষ্ঠানিকভাবে রিলিজ দেন।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার শিবরাম কাঁঠালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার ও আলমগীর হোসেন দম্পত্তির সন্তান নূহা ও নাবাকে অস্ত্রপ্রচারের মাধ্যমে আলাদা করে বিএসএমএমইউর চিকিৎসকদল। জোড়া লাগানো নূহা ও নাবার শরীরের পেছন ও নিচের দিক থেকে যুক্ত ছিল। কনজয়েন্ট টুইন পিগোপেগাস নুহা ও নাবাকে কয়েকটি অস্ত্র প্রচারের মাধ্যমে আলাদা করা হয়। এই জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ জমজ শিশুর চিকিৎসা বাবদ ৫০ লাখ টাকারও বেশি খরচ হয়েছে। এরমধ্যে কেবিন ভাড়া, হাসপাতালের ফার্মেসির মাধ্যমে ওষুধ কেনা, অপারেশনাল যন্ত্র সরঞ্জাম কেনার মোট ৩৬ লাখ টাকা খরচ করেছে ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ। আর ১৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে অনুদান হিসেবে। অর্থাৎ জোড়া লাগানো জমজ শিশুর চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়েছে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল ডা. রেজাউর রহমান জানিয়েছেন, নূহা ও নাবার রিলিজ দেয়া হলেও চিকিৎসার জন্য তাদেরকে আরও ফলোআপে থাকতে হবে। আরও অস্ত্র প্রচারের দরকার আছে।
উল্লেখ্য ২০২২ সালেরর ২১ শে মার্চ তাদের জন্ম হয়। আর ২০২২ সালে ৪ এপ্রিল তাদেরকে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে তারা হাসপাতালে বেড়েই উঠেছে। রবিবার মেডিকেল ভার্সিটির প্রো-ভিসি একাডেমিক ডা. শাহিনুল আলম, প্রো-ভিসি ডা. আবুল কালাম আজাদ ও ডা. মজিবুর রহমান হাওলাদার এবং রেজিস্ট্রার ডা. নজরুল ইসলামসহ অনেকেই উপস্থিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদেরকে রিলিজ দেয়া হয়েছে।

Leave a Reply