গতকালের নিবেন্ধ সম্প্রীতির আলোচনার প্রয়াস করা হয়েছিল। আর আজই দুই দেশের পাল্টাপাল্টি খবর পেলাম। যা আলোচনার উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে। বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক দল আগরতলা অভিমুখী লংমার্চ করবে। ওদিকে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো দিল্লীস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশেন প্রতিবাদ মিছিল করবে।
এখন কথা হলো, সমস্যা দুই দেশের মধ্যে হয়েছে। সমাধানের জন্য আলোচনার আহ্বানও দুই দেশের মধ্যেই হয়েছে। তা তো অবশ্যই রাষ্ট্রীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আলোচনাও করবেন রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিগণ। আমাদের উচিৎ আলোচনার শেষ দেখে নেয়া। যদি আলোচনায় সমাধান না আসে তখন রাজনৈতিক কর্মসুচী অবশ্যই দেয়া যেতে পারে। এখানে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হলো কিনা একটু ভেবে দেখুন তো! আন্তর্জাতিক সংকট রাষ্ট্রকে উপেক্ষা করে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা সম্ভব?
আবার মাঝখানে এসে গেল মার্কিন সংবাদ সংস্থা জরিপ করে দেখতে চাইলো বাংলাদেশের মানুষ কোন প্রতিবেশী দেশের মানুষকে বেশি পছন্দ করে। এর ফল প্রকাশ করেছে পাকিস্তানের মানুষকে বাংলাদেশীরা বেশি পছন্দ করে। এ প্রসঙ্গে আমার প্রশ্ন হলো এই সময়ে এই জরিপের প্রয়োজন পড়লো কেন মার্কিন এই সংবাদমাধ্যমের? আসলে মার্কিন কী বোঝাতে চায়!
মার্কিন ভালোভাবেই জানেই পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ নয়। বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে পাকিস্তানের সীমান্ত ১২০০ কিলোমিটার দূরে। মাঝখানে ভারত। সম্পর্কটাও এতকাল মোটেও ভাল ছিল না। কারণ ’৭১ সালে তারা যা করেছিল, যে অপরাধ করেছিল সেজন্য আজ পর্যন্ত তারা একটিবার ক্ষমাও চায়নি। তার মধ্য দিয়েও রাজনৈতিক দেউলিয়াত্মের কারণে আজ পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগতে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের। তার মানে এটা নয় যে, সেই ’৭১-এ আমেরিকা বাংলাদেশের বিপক্ষে থেকে অপমানিত হয়েছিল। এবারে এদেশের মানুষকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে তুলে পাকিস্তান নির্ভর করে দেশের মধ্যে অরাজকতা সৃষ্টি করে, সেই পুরনো অপমানের শোধ তুলবে।
মার্কিনকেও জানিয়ে দিতে চাই। এদেশের মানুষ কেউ আছে পাকিস্তানপন্থী, কেউ বা ভারতপন্থী। কিন্তু তারা সবাই দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থাকে সর্বদা। বাংলার মানুষ বাইরের যাকেই ভালোবাসুক তারা নিজেদের অস্তিত্বকে সম্মান করতে জানে। অস্তিত্বকে ধরে রাখার জন্য তারা বদ্ধপরিকর।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply