আজ ২৫ ডিসেম্বর। পৃথিবীর সকল দেশের খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। পর্বটির নাম বড়দিন। সংস্কৃত শব্দে ধর্ম শব্দের একটি সুন্দর ভাবার্থ আছে। তা হলো আত্মমোক্ষার্থং জগদ্ধিতায় চ। এর বাংলা অর্থ হলো নিজের মুক্তি এবং জগতের কল্যাণ। মানে দাঁড়ালো যে আমি নিজের সমস্ত বাধা থেকে যেমন মুক্তির চেষ্টা করবো। তেমনি জগতের কল্যাণজনক কাজেও নিজেকে নিয়োজিত না রাখলে তার ধর্ম পালন বা রক্ষা হবে না।
এখানে জগতের মুক্তির কথা এসেই গেল যখন তখন কেউ কেউ বলতেই পারে সে কাজ তো রাজনীতির। ধর্ম আর রাজনীতি তো সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন ব্যাপার। এ প্রসঙ্গে আমার কথা হলো ধর্ম হোক, রাজনীতি হোক, আর বিজ্ঞান হোক। এ সবই সৃষ্টি হয়েছে মানুষের কল্যাণের জন্য। কিন্তু তার প্রয়োগটা কেমন হবে তা তো নির্ভর করবে প্রয়োগকর্তা বা ব্যক্তির ওপর।
বিজ্ঞান মানুষের আশীর্বাদ হয়েই পৃথিবীতে এসেছিল। আমরা তার অপব্যবহার করে কলুষিত করে ফেলেছি বিজ্ঞান ব্যবস্থাকে। বিজ্ঞানকে আমরা বিশ্বের মানবজাতির জন্য একটি আতঙ্কে পরিণত করে দিয়েছি। পাহাড় কেটে পাথর সংগ্রহ করে মানুষের কল্যাণকর কাজে লাগানোর জন্য কামান ডিনামাইট তৈরি করেছিল বিজ্ঞান। মানুষের ঔদ্ধত্যের স্বার্থে আজ বিজ্ঞানকে ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে মারণাস্ত্র। যাতে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যেতে পারে নিমেষেই।
ক্ষমতায় যাওয়া এবং টিকে থাকার জন্য রাজনীতি দিয়ে মানুষের সুশাসন নিশ্চিতের কথা বলা হয় সর্বদা। প্রকৃতপক্ষে ক্ষমতায় যাওয়ার পর এ কথা যারা বলে তাদেরকেই শাস্তির আওতায় নেয়া হয়। রাজনীতিকে এখন ক্ষমতার গলাবাজিতেই ব্যবহার করা হয়। আসলে মানুষের শান্তি বা সুশাসনের জন্য নয়।
আর ধর্ম! কথায় আছে যা ধারণ করে, তাই ধর্ম। ঠিক কথা। তবে ধর্মকে তো আগে নিজে ধারণ করতে হবে। তবেই তো ধর্ম তার ভক্তকে ধারণ বা রক্ষা করবে। ধর্ম হলো সমস্ত পবিত্রতার মূল। কলুষিত রাজনীতির সাথে ধর্মকে জড়িয়ে কেবল ধর্মকেই বিতর্কিত করা হচ্ছে। ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে রাজনৈতিক সার্থে। ধর্ম, বিজ্ঞান, রাজনীতি এই সব বিষয়গুলোকে যদি আমরা সত্যিকারে মানবকল্যাণের কাজে লাগাই বা লাগাতে চাই, তাহলে আমাদের অবশ্যই জগতের হিতের জন্য কাজ করতে হবে। তাহলেই ধর্মকে ধারণ করা হবে। অতঃপর ধর্ম আমাদেরকে ধারণ করবে।
এই সব শান্তির বার্তা নিয়ে যেসব মহা মনিষীরা পৃথিবীতে এসেছেন, তার মধ্যে অন্যতম একজন মনিষী জিশু খ্রীষ্ট। এই দিনে মাতা মেরির কোল জুড়ে ধরাধামে অবতীর্ণ হয়েছিলেন জিশু। পৃথিবীতে অজস্র শান্তির বাণী দিয়েছিলেন। মনবকল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন তিনি। এই মহান দায়িত্ব পালনের ব্রত রক্ষা করতে তাকে পৃথিবীর মানুষের হাতেই জীবন দিতে হয়েছিল ক্রুশবিদ্ধ হয়ে। এ দিনটিকে স্মরণ করে আমরা বিশ্বের সকল শান্তিকামী মানুষেরা আগামীর পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার শপথ নিতে হাতে হাত মেলাতে পারি। জয় হোক মানব শান্তির, মহনুভবতার ও মানবতার।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply