প্রতি মুহূর্তে সময় অতীত হয়। অতীত সময়ের জন্য কেউ কান্না করে না। করা উচিতও নয়। কারণ সময় প্রবাহমান। বয়ে চলাই তার কাজ। কান্না করা যায় অতীত কৃত কর্মের জন্য। কখনো কখনো শোনা যায় অতীত সময়ের জন্য আফসোস করে মানুষ। কিন্তু আসলে তা নয়। একটু চিন্তা করলেই দেখা যাবে ফেলে আসা দিনগুলোতে সে যা কিছু খারাপ কাজ করেছে তার জন্যই সে অনুতাপ করছে।
আসলে প্রতি মুহূর্তে চলে যাওয়ার সময়কে কেউ মনেও করে না সেভাবে। বিশেষ বিশেষ সময় এটি দাগ কেটে রাখার চেষ্টা করে মানুষের মনে। যেমন আজ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪। এ বছরের শেষ দিন। আগামীকালের সূর্য উদয় হবে নতুন দিনে, নতুন বছরে। আজ মধ্যরাত থেকেই শুরু হয়ে যাবে বর্ষ বরণ। পুরনো বছরকে বিদায় দিয়েই নতুন বছরকে স্বাগত জানাবে নতুন প্রিয় প্রজন্ম।
শুধু কি বছরকেই নতুন রূপে বরণ করলে হবে? নিজের মধ্য থেকে পুরনো ময়লা আবরজনাকেও তো বিদায় দিতে হবে। নিজের মনকে পবিত্র করে তুলতে হবে। তবেই তো দিন বদলের সময় হবে। নিজের মধ্যকার বৈষম্যকে দূর করতে না পরলে তো বৈষম্যহীন হতে পারব না নিজে। না পারব বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে। সমাজে পরিবর্তন আনতে হলে তো আগে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। আর নিজের পরিবর্তনের অর্থটাও আগে বুঝতে হবে। আগে ভাল ছিলাম এখন থেকে মন্দ হবো, পরিবর্তনটি অবশ্যই এমন হবে না। হতে হবে আগে যতটা ভাল ছিলাম, আজকের পর তারচেয়ে আরো বেশি ভাল হতে হবে। এমন চেতনা ধারণ করাই হবে আজকের শপথ। আগামীর দিনগুলো যেন আমার জীবনের সবচেয়ে ভাল দিন হয়ে আসে, জগতের সবার জন্য তা কল্যাণ বয়ে আনে। আমি যেন সেই কল্যাণ বাহকের একজন অগ্রদূত হয়ে থাকতে পারি।
এমন ভাবনা ভেবে অগণিত মানুষ পৃথিবীতে অমর হয়ে আছেন। তাদের ভাবনা, তাদের কর্ম তাদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে, রাখবেও অনন্তকাল ধরে। যেমন ক’দিন আগেই পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার। তিনি বিশ্বের মানবতাবাদী নেতা ছিলেন। মহামতি হেনরি ডুনান্ট মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করে অমর হয়ে আছেন। উইলিয়াম শেক্সপেয়ার, ডেল কার্নেগী, সক্রেটিস, রুশো প্রমুখ মানবতাবাদীরা মানুষের কল্যাণের ভাবনা ও কর্মের মধ্যেই কাটিয়ে দিয়েছিলেন তাদের জীবন।
সময় কেবল আফসোসের জন্য নয়। সে গর্বেরও হতে পারে। তা কেবল ব্যক্তির চেতনার কারণে। যেমন তেমনই একটি সময়কে বিখ্যাত করে রেখেছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ দার্শনিক বিজ্ঞানী নিউটন। পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তি এবং অসংখ্য গাণিতিক সূত্র ও ফরমুলা তৈরি করে পৃথিবীর মানুষের কাছে ধরে রেখেছেন সেই আপেল পতনের সময়টিকে। আপেলটি যখন তাঁর মাথায় পড়েছিল তখনই তা নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিলেন তিনি। সমাধানও খুঁজে পেয়েছিলেন তিনি। চয়ের কেটলির পানি উথলে ঢাকনা খুলে বেরিয়ে আসতে দেখে গবেষণা শুরু করে দিয়েছিলেন জেমস ওয়াট। তা থেকে তিনি তৈরি করে ফেললেন রেলগাড়ির উঞ্জিন। সেই কেটলির পানি ফুলে ওঠার সময়টিকে ধরে রাখলেন মানুষের মাঝে। তিনিও অমরত্ব অর্জন করলেন আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে।
এমন হতেই পারে আজকের এই পুরনো দিনের বিদায় দিয়ে নতুন বছরের স্বাগত সময়ে কারো না কারো মনে তুচ্ছ কোন ঘটনা থেকেও এমন মহান চেতনার উদয় হতে পারে। হতে পারে নতুন কোন আবিষ্কার। কিংবা রচনা হতে কোন মহাকাব্য বা সাহিত্য। আসুন আমরা সবাই নতুন চেতনাকে ধারণ করে নতুনকে বরণ করার বাসনা নিয়ে পুরনোকে বিদায় দিই। মনে জমে থাকা ময়লা আবর্জনাকে সাফ করে সম্পূর্ণ নতুন হয়ে উঠি মননে ও চেতনায়।
নির্বাহী সম্পাদক
Leave a Reply