কবি পরিচিতিঃ কবি কলি চক্রবর্তী ফেনী জেলার তুলাবাড়িয়া গ্রামের ঠাকুরবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন ১৯৮৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর। তিনি স্কুল জীবন লেখালেখি করছেন। বিভিন্ন ম্যাগাজিন অনলাইন পোর্টাল ও পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশিত হচ্ছে। তার লেখা একক প্রথম কাব্যগ্রন্থ ১. চৈত্রদহন (প্রতিভা প্রকাশ), ২. পানকৌড়ি (প্রতিবিম্ব প্রকাশ) এবং ৩. চাঁদ নিয়েছে চাঁদের পিছু। ছড়ার বই (ছিন্নপত্র প্রকাশনী) গ্রন্থের কবিতা আর ছাড়া গুলো পাঠকের মনকে আলোড়িত করতে সক্ষম হবে। আমরা আশা করি তার কাছ থেকে আরো আরো ভালো লেখা দেশের সকল মানুষকে উপহার দিতে তিনি সক্ষম হবেন।
কবিতার উপস্থাপনঃ
১ নং কবিতা
ধোয়া
ধোয়ার আধারে
ক্লান্ত বাজারে
নিঃশ্বাস চলে ধীরগতি
রোজ মরে শ্বাস,
হৃদ ক্রিয়া হ্রাস
মৃত্যু ডাকছে এসো পথিক।
শহরের যান
রাখে না তো মান,
প্রকৃতি হারায় বিশুদ্ধ বায়
ভাবলে কি আর রয় গতি!
ইটভাটার ওই কালো ধোঁয়ায়
মেঘের বাষ্পে বিষ ছড়ায়
সেই বাষ্প বৃষ্টি বেশে
মানুষের মাঝে বিষ মাখায়।
ভাবে সে কে আর
আর কত জান
আর কত প্রাণ
আর কত ধোঁয়া
বিষে ভরা ঘ্রাণ
শেষ হলে তবে শেষ গতি।
২ নং কবিতা
কোথায় সাধুর বাস
সাধু বুঝে নিত্য খুঁজে
সৎ সঙ্গের আঁশ সৎসঙ্গের রঙ্গে পাই না
আমার সাধুর বাস।
সাধু আমার কি রঙেতে
কোন ভাবেতে কোন জাতেতে
করেন তারে চাষ?
সাধুর সত্যে মানুষ খুঁজি
মানুষ আমায় অবুঝ বুঝি
হেলায় রাখে খাস।
সাধুর খোঁজে মন উদাসী
ত্যাগিতে চাই সংসার ফাঁসি
জড়িয়ে বাধন জটিল মায়ায়
হলো সর্বনাশ।
গোলকধাঁধার আপন পরে
তিনিই প্রাণের সার।
৩ নং কবিতা
নদী আমার মা
মরা নদীর দুখের খবর
জানতে চাও নি কেউ!
জল পিপাসায় মরেনি সে
দুখে লুকাইছে ঢেউ।
মরা নদীর মন মরেছে
স্রোত হয়েছে বিলীন
অথৈ জলের দুঃখে ডুবে
সদা রয় মুখ মলিন।
হায়রে আমার জন্মভূমি
নদীমাতৃক দেশ
মায়ের হাসি সন্তান কাড়ে
নয়ন শুকিয়ে শেষ।
৪ নং কবিতা
বাউল আপন কার
বাউল একতারা খান হাতে ধরি
দেহতত্ত্ব সুরে পড়ি গানে দিলেন টান
তার দেহ তরী পার করিলো
মাটির পা দুই খান।
বাউল চিত্ত সুখে নিত্য করি
একতারা ওই প্রেমে পড়ি
অবাক বেশে মৃদু হেসে
আনন্দে আট খান।
নেই বাউলের অর্থ কড়ি
টানাপোড়ায় জীবন গড়ি
তবুও সুখী অন্তরেতে
এ কার অবদান!
প্রশ্ন করি ওগো বাউল
তুমি আপন কার
বাউল বলে আমার
আপন আমি সৃষ্টি যার।
৫ নং কবিতা
কালবৈশাখী
ফাঁপিয়া কাঁপিয়া
বিদ্যুৎ হানে গর্জন
তপ্ত দহনে ধূলিকণা ওড়ে
কোথাও নেই শব্দ।
ওরে পবন বহিছে শৃঙ্গ ভেদিয়া
আয় তবে আয় শূন্য ছেদিয়া
রণচণ্ডীর বেস ধরিয়া
হোক কালবৈশাখী নাম তোর।
ওরে গর্জন নেই অর্জন
আয় হানা দিতে মেঘদূত হয়ে যাক ভারী বর্ষণ।
ওরে দহনের কালে মেঘ দেবতা
তব নামে দিনু অর্ঘ্য
আয় আয় রে এবার প্রলয় নিয়ে
দহন করিতে খর্ব।
সমাপ্ত
Leave a Reply