কবি পরিচিতিঃ কবি সুফিয়া শিউলির জন্ম রংপুরে। রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি শেষ করার পর ময়মনসিংহ বিএড কলেজ থেকে শিক্ষায় স্নাতক ডিগ্রি শেষ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং শোষণমুক্ত মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময় পাড়ি দেন রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামে। বর্তমানে রাজপথ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিলেও আজও স্বপ্ন দেখেন সমাজ পরিবর্তনের। রাজপথ ছাড়লেও সেই স্বপ্ন দেখা সমাজ প্রতিষ্ঠায় অবিরাম চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি তাঁর লেখালেখির মধ্যদিয়ে। লেখালেখির শুরুটা কলেজ জীবনের শুরুতেই। গদ্য-পদ্যে সমান প্রচেষ্টা। ইতিমধ্যে (‘শম্পা প্রদীপ্তি’ লেখোকি নামে) তাঁর কবিতা ও গল্পের বেশ কয়েকটি বইও প্রকাশিত হয়েছে। যারমধ্যে ‘বাংলা মায়ের ধন্য মেয়ে’, ‘আসো যদি পুরাণের নীলকণ্ঠ হয়ে’, ‘ভালোবাসায় কষ্ট আছে’, ‘আজকে আমার ছুটি’, ‘পতাকায় মা আছে’, ‘বাবুপুতুল খুকুপুতুল’ ও ‘পড়ন্ত বিকেলের ছোঁয়া’ বইগুলো অন্যতম। প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা ১২ (একক ৯টি, যৌথ ৩টি)।
কবিতার আয়োজন
১ নং কবিতা
চৈত্র দিনের এই দুপুরে
চৈত্র দিনের এই দুপুরে
শুকনো পাতার সুর নূপুরে
কী যে হয় বুকের মাঝে..
তখন একা একলা ঘরে
প্রাণটা কেমন কেমন করে।
মন বসে না কাজে……
বাঁশের ঝাড়ে উদাস হাওয়া
বিষন্নতায় কষ্টে ছাওয়া
হিয়ার লাগায় দোলা…।
স্মৃতি মোড়া নির্জনতা…
ভাবতে থাকি সেসব কথা
হৃদয়মুড়ে ঘুমিয়ে আছে
যায় না সেতো ভোলা।।
২ নং কবিতা
অকাল বসন্ত
কিছুই দেখি না আর…
অজান্তে ছোঁয়া লেগেছিল বসন্তে
পুড়ে গেছে শেষের অঙ্গুলি
বুঝেছিলাম এ অকাল বসন্ত।
ধোঁয়াশার সাগর ওপারে
কে যেন দাঁড়িয়ে আছে…
হেলেপড়া শিমুলের ডাল ধরে
কাঁটা থেকে ফুলের দিকে হাতটা সরিয়ে।
দেখার তীব্র তৃষ্ণায় হেঁটে যাই
কিছুই দেখি না, কেবল ধোঁয়াশার সাগর
সহজ সাঁকো পারাপার সাগরে হয় না
অথচ হাঁটা বাকি অনেকটা
কিছুই দেখি না, তবু মনে হয়-
কে যেন ওপারে দাঁড়িয়ে…।
৩ নং কবিতা
স্বপ্নের হেরফের
সময়ের চোখে মন রেখে বিশ বছরে বিশ কোটিবার ভেবেছি আমি দাঁড়িয়ে থাকবো না
কিন্তু আমি দাঁড়িয়েই থেকেছি।
আমি অপেক্ষা করেছি পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার…
অপেক্ষা করেছি বেলী, শিউলির….
গহীনে ফুটে থাকার স্বপ্নে বিভোর থেকেছি
বিশ বছরে বিশ কোটি বার স্বপ্ন দেখতে
না চেয়েও আমি বারবার স্বপ্ন দেখেছি চন্দ্রমল্লিকার!
অথচ আজ দাঁড়িয়ে থাকার কথা কোটিবার
ভেবে ভেবেও আমি বসে পড়ি..
রঙিন ফুলগুলোকে বারবার দেখতে চেয়েও
ঝাপসা দেখি চোখ পিটপিট করে…
দেখা হয় না গাছগুলোর পাতা হলুদ নাকি সবুজ
শুধুই জল ঢেলে ঢেলে শেকড়-বাকড় সতেজ রাখার চেষ্টা।
৪ নং কবিতা
মানুষ থাকে না একা
সুখদিনে অনেকেই আসে ছায়ায় মায়ায় থাকে জড়িয়ে,
যেমন মধুপেরা জোটে বনে পুষ্প- মৌসুমে;
যেমন, বসন্ত উৎসবে সংগীতে মাতে সব বকুলতলায়
ঝঞ্ঝার দিনে কেউ ছুটবে না পলাশের বনে।
তেমনই দুঃখের কালে হায় থাকে না সেই সুখের সখারা
তবুও তো থাকে কেউ!
সুখে যে ছিল না কাছে সেই আসে দুঃখে মায়া হয়ে
থাকে সে ছায়ার মতো বেদনার অংশী হয়ে দুঃখ জয়ে যোগাতে সাহস
মানুষ হয় না একা; কষ্টের দিনেও পাশে কেউ তো থাকেই।
৫ নং কবিতা
নিদারুণ বাস্তবতা
সে পাহাড়ে মাথা রাখে
সাগরের ঢেউয়ে দোল খায় দেহ
ফুল-পাখি-লতা-পাতার-
স্বপ্নঘুমে বিভোর থাকে তার চিত্ত!
জেগে থাকে আগুনপোড়া ঘাস
জেগে থাকে ঘুণধরা গাছ
মড়াডালে ক্লান্ত পাখি
রোদপোড়া উড়ন্ত পতাকার লাঠি!
এক নাবিকের ঘুম ভাঙার অপেক্ষায় তারা
এক যোদ্ধার স্বপ্নবিলাস ছেড়ে
জেগে ওঠার অপেক্ষায় তারা….
নতুন করে গাঢ় সবুজে-
লাল সূর্য দেখার অপেক্ষায় তারা…
সমাপ্ত
Leave a Reply